নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভার কার্যপত্রে এ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক মতবিনিময় ও প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, মহাপুলিশ পরিদর্শক বাহারুল আলম, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসার, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই, এনটিএমসি, সিআইডি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত কার্যপত্রে জানানো হয়, ড্রোন একটি আধুনিক প্রযুক্তি হলেও নির্বাচনকালে এর ব্যবহার নানা ধরনের ঝুঁকি ও অসুবিধা তৈরি করতে পারে। ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার চারটি প্রধান কারণ হলোÑগোপনীয়তা লঙ্ঘন, নিরাপত্তার ঝুঁকি, আইন ও বিধি লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। ড্রোন ব্যবহার করে ভোটারদের ব্যক্তিগত স্থান, অফিস, কিংবা ভোটকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, যা ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে লঙ্ঘন করতে পারে। অননুমোদিত ড্রোন ব্যবহার করে বিপজ্জনক বস্তু বা বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব, যা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও জনসমাগমের ওপর হামলার ঝুঁকি তৈরি করে। ড্রোন পরিচালনায় কিছু আইনগত নিয়ম রয়েছে, কিন্তু অনেকেই তা অনুসরণ করে না। ফলে নির্বাচনি এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে ড্রোন উড্ডয়ন আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে ভোটদানের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা অপব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকে, যা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।
কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনটি পর্যায়ে কাজ করে থাকে। তফসিল ঘোষণার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে। অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচন পর্যন্ত এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই সর্বাধিক গুরুত্ব পায়, যাতে প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আমর্ড পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটগ্রহণ শেষে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা রোধে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নির্বাচনকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
