Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 9:01 am

ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র

নিলুফা আক্তার:  বৈষম্য শব্দের অর্থ হলো অসমতা,পার্থক্য,প্রভেদ বা গোষ্ঠীর সাথে জাতি,ধর্ম,বর্ণ,লিঙ্গ,বয়স বা শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অন্যায় ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করাই হলো বৈষম্য।এর ফলে এক পক্ষ সুবিধা পায় অন্য পক্ষ বঞ্চিত হয়।একটি উন্নত,আধুনিক এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কোন বিকল্প নেই।জাতি,ধর্ম,বর্ণ এবং লিঙ্গভেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই হলো আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।দীর্ঘদিনের শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠন ছিল স্বাধীনতার অন্যতম মূল চেতনা।

২০২৪ সালের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার”দাবি আরও জোরালো হয়েছে।বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।একটি দেশ থেকে বৈষম্য পুরোপুরি দূর করতে হলে অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান কমিয়ে আনা।প্রভাবশালী ও সাধারণ মানুষের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার।

সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা।সত্যিকার অর্থে একটি দেশ তখনই বৈষম্যহীন হয়,যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক তার যোগ্যতার প্রাপ্য সম্মান পায়।বৈষম্যহীন দেশ গড়া কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়।এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং পারস্পরিক সহনশীলতা।একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং রাষ্টীয় এবং সামাজিকভাবে চর্চা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্মই হয় বৈষম্য থেকে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা । তবে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে রাজিৈতক ,অর্থনৈতিক,এবং সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান।পাকিস্তানি শোষকদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন হলেও ৫৪ বছর পর আজও সমাজ ও রাষ্ট্রের পরতে পরতে বৈষম্য রয়ে গেছে।সম্পদ এবং আয়ের সুষম বন্টন না হওয়ায় ধনী- দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে।ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং সাধারণ মানুষের নীতিনির্ধারণমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগের অভাব।

গ্রাম ও শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূর করে ‘একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালু করতে করতে হবে।চাকরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্ক্ার এবং যোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও তা যেন যোগ্যতার পথে বাধা না হয়। এই বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ বাংরাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বৈষম্য মুক্তি: যে আকাঙ্খা অপূর্ণই থাকছে এবং ভালো মানুষের অভাব, নৈতিকতার সংকট ও আমাদের করণীয় থেকে সংযোজন করলে ভালো হয়।

উচ্চবিত্তের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি এবং দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে হবে।রাজনেতিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্যের উর্ধ্বে উঠে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে।বাংলাদেশ একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।এর জন্য প্রয়োজন রাজনেতিক সদিচ্ছা এবং জনগনের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

বৈষম্যমুক্তি যে আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থাকছে [1]