নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক খাতের নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্র্রতি দেশের দুই জেলায় ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বাজারে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) শাখায় ডাকাতির চেষ্টার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় সহিদুল হক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে ব্যাংকের ভেতর থেকে তাকে ডাকাতির সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। আটক সহিদুল হক (২৮) একই উপজেলার সারাপিগছ এলাকার বাসিন্দা।
নৈশপ্রহরীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ব্যাংকের নাইটগার্ড রাতের খাবারের জন্য নিচে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ভেতরে আলো জ্বলা এবং শব্দ শুনতে পান। এ সময় সন্দেহ হলে তিনি ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মকর্তাদের খবর দেন এবং স্থানীয়দের জড়ো করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে ওই যুবককে হাতেনাতে ধরা হয়। এ সময় তার ব্যাগ থেকে ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই আসাদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আটক যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৯ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সিসি টিভির হার্ডডিস্কগুলো নিয়ে যায় তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকে ঢুকে চুরির বিষয়টি টের পায় কর্তৃপক্ষ। আগের দিন বুধবার রাতের কোনো এক সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মসজিদের পাশের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা অবস্থিত। গেল রাতে ভবনের পেছন পাশে মই লাগিয়ে ব্যাংকের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্র। তারা ভল্ট ভেঙে নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৯ টাকা ও সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যায়। সকালে ব্যাংক খুলে কর্মচারীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, আমরা একটা চুরির খবর পেয়েছি। ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে গেছে। সিসিটিভির হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে। ভল্টের তালা ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে বড় ধরনের ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলে। ওই সময়ে দুই দিনে তিনটি ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা।
ওই বছর ২ এপ্রিল রাতে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি হয়। এর পরদিন বুধবার দুপুরে থানচিতে কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের দুটি শাখায় ডাকাতির চেষ্টা চালায় একটি চক্র। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বলা হয়েছিল, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় কুকি চিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সেসময় সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রুমার সোনালী ব্যাকের শাখায় ডাকাতিতে শতাধিক কেএনএফ সদস্য অংশ নেয়। তারা ডাকাতির আগে বিদ্যুতের সাব স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। তারপর স্থানীয় মসজিদ থেকে ব্যাংকের শাখাটির ব্যবস্থাপককে ধরে নিয়ে যায়। এরপর ব্যাংকে ঢুকে ভল্টে থাকা টাকা নিয়ে যায় তারা। তবে ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বুধবার বিকালে এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের অন্য ভল্ট ভেঙেছিল সন্ত্রাসীরা। তবে মূল ভল্ট ভাঙতে না পারায় ব্যাংকের টাকা সুরক্ষিত আছে।
কেএনএফের সদস্যরা দুটি এসএমজি (লাইট মেশিন গান) ও ৬০ রাউন্ড গুলি, ৮টি চীনা রাইফেল ও ৩২০ রাউন্ড গুলি, চারটি শটগান ও ৩৫টি কার্তুজ এবং সোনালী ব্যাংকের শাখার দুটি ভল্টের একটি ভেঙে রক্ষিত টাকা নিয়ে গেছে। টাকার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সোনালী ব্যাংক থেকে ২০০ গজ উত্তরে রুমা উপজেলা পরিষদ ভবন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন আটজন আনসার সদস্য। তাদের চারটি শটগান ও ৩৫ রাউন্ড গুলি লুট করে সন্ত্রাসীরা।
এরও ১০ বছর আগে ঘটে ছিল সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চুরির ঘটনা। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখায় দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চোরের দল ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরের দিন ব্যাংকে গিয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।
শাখাটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যেই এই চুরি হয়। পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, শহরের রথখোলায় সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখা অবস্থিত। সেখানে ট্রেজারি চালানসহ অন্য শাখাগুলোর টাকাও জমা রাখা হয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তা মোহসিনুল হক ভল্টে ঢুকে মেঝেতে সুড়ঙ্গ দেখেন। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে ব্যাংকের পাশে মৃত আমিনুল হকের বাড়ির একজন ভাড়াটের কক্ষে সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তের সন্ধান পায়। পরে গণনা করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর ভূঁঞা।

Discussion about this post