Print Date & Time : 17 April 2026 Friday 9:40 am

পাঁচ বছরে অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশ

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে প্রধান যোগাযোগপথ যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে ছয় লেনে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিলেও অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশে সীমাবদ্ধ। নিয়মিত সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় খানাখন্দে ভরা সড়ক পাড়ি দিতে যাত্রী ও পরিবহন চালকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

খুলনা, কুষ্টিয়া ও উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হলো যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। নির্বিঘ্ন ও আধুনিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২০ সালে ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার) প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মধ্যে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতায় চিত্র ভিন্নÑপাঁচ বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশে সীমাবদ্ধ। আরও বিপত্তি ঘটেছে নিয়মিত সংস্কার বন্ধ হয়ে যাওয়ায়; টানা তিন বছর ধরে অবহেলিত এই সড়ক এখন যাত্রী ও যানবাহন চালকদের জন্য ভোগান্তির নতুন নাম হয়ে উঠেছে।

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক চলাচলকারী বাসকচালক আইয়ুব আলী বলেন, ‘খানাখন্দ থাকলেও আগে মাঝেমধ্যে কিছুটা সংস্কার করা হতো। এখন সেটাও হয় না। এক ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ।’

ট্রাকচালক আরিফুজ্জামান বলেন, ‘মহাসড়কের অবস্থা এত খারাপ যে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে খানাখন্দ বেড়ে যায়। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।’

যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছয় লেন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মহাসড়কটি প্রকল্প পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই আলাদা সংস্কারের বরাদ্দ নেই। তবে জরুরি ভিত্তিতে কিছু জায়গায় ইট দিয়ে সলিং করা হয়েছে।’

ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার, ফেজ-১) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী নকিবুল বারী বলেন, ‘প্রকল্প অনুমোদন হলেও ডিজাইন ও ঠিকাদার নিয়োগে সাড়ে তিন বছর লেগেছে। মূল চ্যালেঞ্জ ছিল ভূমি অধিগ্রহণ। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে কাজ দ্রুত এগোবে। আশা করছি, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ শেষ করা যাবে।’

যশোর জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কের জন্য ৫০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। এজন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগত, যা সম্প্রতি পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের কাজ চলছে। দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।’

প্রসঙ্গত, ৬২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় যশোর সদরের মুরাদগড় থেকে চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হবে। এ অংশে দুটি ফ্লাইওভার, একটি সেতু, ১৫টি কালভার্ট, একটি ভেহিকুলার ওভারপাস এবং একটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।