শেয়ার বিজ ডেস্ক : পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার প্রধান সীমান্ত ক্রসিংগুলো গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ব্যবসায়ী নেতারা রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্ত লাগোয়া এই প্রদেশটির অর্থনীতি আফগানিস্তানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। পাকিস্তান-আফগানিস্তান জয়েন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং সারহাদ চেম্বারের শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ব্যবসায়ী নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশই খাইবার পাখতুনখোয়ার কাস্টমস স্টেশন, বিশেষ করে তোরখাম সীমান্ত দিয়ে যায়।
সীমান্ত বন্ধ থাকায় সিমেন্ট, টেক্সটাইল, ওষুধ, নির্মাণ সামগ্রী এবং কৃষিপণ্যের চালান আটকে আছে। এতে প্রদেশের রপ্তানি খাতে আনুমানিক ২৫০ কোটি রুপি এবং সরকারি রাজস্বে আরও প্রায় ২৫০ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাণিজ্যের এই স্থবিরতা স্থানীয় শিল্প ও পরিবহন খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য গতবছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথমার্ধে বাণিজ্যের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা গতবছর একই সময়ে ছিল ১২৬ কোটি ডলার। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, রপ্তানিকারকরা প্রতিদিন ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি লোকসান গুণছেন। সীমান্তে আটকে থাকা কোটি কোটি টাকার পচনশীল পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই সংকটের প্রভাব কেবল পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। হাজার হাজার ট্রাক চালক, শ্রমিক এবং দিনমজুর তাদের জীবিকা হারিয়েছেন। পেশোয়ারসহ অন্যান্য শহরের বাজারগুলোতেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রানজিট বাণিজ্যের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় পণ্য পাঠানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পাকিস্তানের এই সীমান্ত জটিলতার সুযোগে আফগানিস্তান তাদের বাণিজ্যের গতিপথ পরিবর্তন করছে। তারা এখন ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করছে। পাকিস্তানের ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত সীমান্ত খুলে দিয়ে বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না হয়, তবে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা আফগান বাজার চিরতরে হারাতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post