চট্টগ্রাম ব্যুরো : ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ট্যাংকার ‘পিভিটি সোলানা’। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসার কথা রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আজ মঙ্গলবার বন্দরের ডলফিন জেটিতে জাহাজটি বার্থিং করার পরিকল্পনা বন্দর কর্তৃপক্ষের।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে আসছে। চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও দৃশ্যমান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জ্বালানিবাহী জাহাজ খালাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা জানান, শুধু সমুদ্রপথেই নয়, ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে এরই মধ্যে সাত হাজার টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছেছে। তবে ৩১ মার্চ ভারত থেকে আরও একটি পার্সেল আসার কথা থাকলেও অফিশিয়াল প্রক্রিয়াগত কারণে সেই জ্বালানি তেল আসবে আরও কয়েক দিন পর।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, গত ৩ থেকে আজ ৩০ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল, বেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ এসেছে। পিভিটি সোলানা আসার কথা রয়েছে সোমবার। আগামী ৪ এপ্রিল আরেকটি জাহাজ আসবে এলএনজি নিয়ে। এর আগে গত ২৬ মার্চ ৩১ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে আসা একটি জাহাজ খালাস করে ইতোমধ্যে বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানো ও দ্রুত পণ্য খালাসে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি।
বিপিসি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের এই তৎপরতাকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
