নিজস্ব প্রতিবেদক : সব ধরনের সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শেষদিবসের লেনদেন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট। এর আগে বুধবার বাজার মূলধন পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমে এদিন ৪২৯ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে।
ডিএসইতে দিনের লেনদেনের শুরুতে শেয়ার কেনার চাপে সূচক উত্থানে চলে আসে। লেনদেন শুরুর প্রথম ১৭ মিনিটে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উত্থান হয় ১৮ পয়েন্ট। বেলা বাড়ার পর উত্থানের গতি কমে আসে। এদিন লেনদেন শেষে সূচক ডিএসইএক্সের উত্থান হয় পাঁচ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট। সূচকটি বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে।
ডিএসইএস সূচক এক দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। এদিন ডিএস৩০ সূচক এক দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে।
গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কর্মদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইতে মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বুধবার মূলধন ছিল ছয় লাখ ৮১ হাজার ৫০০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৮৩টির এবং শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৩টির।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মার ১৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা, লাভেলো আইসক্রিমের ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ১০ কোটি ছয় লাখ টাকা, ফাইন ফুডসের আট কোটি পাঁচ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংকের সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা, রবি আজিয়াটার সাত কোটি ৩১ লাখ টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের সাত কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ডমিনেজ স্টিলের ছয় কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন দর কমার শীর্ষে উঠে এসেছে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির দর কমেছে ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিক দর বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে ফাইন ফুডসের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ শতাংশ।
জমি কিনবে সিটি ব্যাংক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় আরও ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন যে জমিটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তাদের নিজস্ব জমির পাশেই অবস্থিত। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুধবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোম্পানিটি জানায়, গুলশান এভিনিউর ব্লক-সিইএনসি, সড়ক-৯ এ সিটি ব্যাংকের প্রায় ২০ কাঠা জমি রয়েছে। নতুন করে যে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি বিদ্যমান জমির লাগোয়া। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক জমি কেনার বিষয়ে ব্যাংকটিকে অনুমতি দিয়েছে।
আলোচিত জমি কেনার জন্য রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচসহ ব্যাংকটির ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে নতুন ও বিদ্যমান জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৮৫৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ভবন নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post