নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সবগুলো মূল্যসূচকে বড় পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমলেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ১৩৮ পয়েন্ট। এই পতনের পর সোমবার সূচকটি ৭২ পয়েন্ট বাড়ে। তবে মঙ্গলবার ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর বুধবার সূচকটি কমে ২ পয়েন্ট।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৮টির। আর ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৪২ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৮২ কোটি ৩৭ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আজকের এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৯২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৬টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আর লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post