Print Date & Time : 25 April 2026 Saturday 1:33 am

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও, সেই স্বপ্নে ফাটল ধরতে বেশি সময় লাগেনি। এর কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে বাজার গত কয়েকদিন ধরেই টালমাটাল আচরণ করছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু করেছে বলে মনে করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় গতকাল বুধবার চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। এরপরও কমেছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখানেও মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। পরবর্তীতে পতনের মাত্রা কিছুটা কমলেও দিনশেষে সূচকটি ১৩৮ পয়েন্ট  হারায়। এই পতনের পর সোমবার সূচক ৭২ পয়েন্ট বাড়লেও মঙ্গলবার পুনরায় ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়লেও প্রথম ঘণ্টার পর দাম বাড়ার তালিকা বড় হতে থাকে এবং সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়।

লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল। তবে শেষদিকে বড় মূলধনি কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যসূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

দিনশেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ২২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।

এদিকে, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন (১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া) কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে, ৫৯টির কমেছে এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের (১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া) কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৪টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ২৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৯টির দাম।

অন্যদিকে, ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টির দাম। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১০টির দাম বেড়েছে, ৪টির কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ‘ডিএসইএক্স’ আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ‘ডিএসই শরিয়াহ সূচক’ ০.৮৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬২ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ‘ডিএসই-৩০ সূচক’ ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫ পয়েন্টে নেমেছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। আজ বাজারটিতে ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে; যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩০২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশন; কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ১৪ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ তালিকার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রবি, ঢাকা ব্যাংক এবং গ্রামীণফোন।

অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ‘সিএএসপিআই’ কমেছে ৬৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮টির দাম বেড়েছে; কমেছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির দাম। আজ সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।