Print Date & Time : 31 January 2026 Saturday 12:04 pm

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গতকাল সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-উভয় বাজারেই দিন শেষে সূচক আগের দিনের তুলনায় বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে সূচকের এই উত্থানের বিপরীতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে একটি বৈপরীত্যপূর্ণ চিত্র দেখা যাচ্ছে। লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়লেও শেষের দিকে অনেক সময় তা ধরে রাখা যাচ্ছে না। গতকালও লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচকে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও দিনের মধ্যভাগে ওঠানামার প্রবণতা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সূচক ঊর্ধ্বমুখী রেখেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ও ডিএস৩০ সূচকেও সামান্য উন্নতি হয়েছে, যা বাজারে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৬ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে, দর কমেছে ১৮৯ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম। বাকি অংশের দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ সূচক বাড়লেও বাজারজুড়ে দরপতনের চাপ ছিল।

লেনদেনের পরিমাণেও দেখা গেছে নিম্নমুখী ধারা। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট এবং ৫২৬ আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচকের ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচকসহ অন্যান্য সূচক দিন শেষে বেড়েছে। তবে এখানেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে এবং দরপতনের শিকার কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। সিএসইতে এদিন ১৬৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির কিছু বেশি কোম্পানির, আর কমেছে প্রায় অর্ধেকের শেয়ারদর। বাকি কোম্পানিগুলোর দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। লেনদেনের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটিরও নিচে, যা আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই কম।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের সামান্য উত্থান বাজারে স্বল্পমেয়াদি ইতিবাচক সংকেত দিলেও লেনদেনের নিম্নগতি ও দরপতনের বিস্তার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবেরই প্রতিফলন। তারা বলছেন, বাজারে টেকসই গতি ফিরতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর বিকল্প নেই।