নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকলেও দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও যৌক্তিক সংস্কারের প্রশ্নে ঐকমত্য পোষণ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কাঠামোগত রূপান্তর’ নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এই ঐকমত্য পোষণ করেন।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। তবে ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে পুঁজিবাজারের সংস্কারে প্রয়োজনীয় কাজ করবে।
আমির খসরু বলেন, পুঁজিবাজারে আসতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আছে। তারা নিয়মিত বাংলাদেশে আসছেন। তবে তারা একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম নানা ধরনের নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা কাক্সিক্ষতভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও জটিল নিয়মকানুন শিথিল করা জরুরি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ তাদের দল সরকার গঠন করলে শরিয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। তবে প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পুঁজিবাজার যেহেতু দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই পুঁজিবাজারের অগ্রগতিতে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে শুধু পুঁজিবাজারের নয়, পুরো বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আরও আধুনিক ও ইন্টেলিজেন্ট হতে হবে।
এবিবির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ গেছে। এগুলো প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাবে এবং ভবিষ্যতে নতুন সংসদেও যাবে।
আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা অপরিহার্য।
সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক।
