নতুন করে আরও দুটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এতে দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৩। এর মধ্যে ১১১টি কারখানার প্লাটিনাম ও ১৩৩টির গোল্ড সনদ রয়েছে। সম্প্রতি পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়া নতুন দুই কারখানাই লিড প্লাটিনাম পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পরিপালন করতে হয়। মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০ নম্বরের বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ নম্বর পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেয়া হয়। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। এ সনদ পেতে প্রতিটি প্রকল্পকে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে স্থাপনা নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত উন্নত মান রক্ষা করতে হয়। আশার কথা, শীর্ষ ১০-এ বাংলাদেশ ভালোই দাপুটে অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার তালিকায় স্থান পেয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। কারণ একই নম্বর পেয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১১টি।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্বব্যাপী এখন সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগটি এখন পৃথিবীজুড়ে সুপরিচিত। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে পোশাকশিল্পের এই অসামান্য অগ্রগতি একদিকে যেমন দেশের জন্য গর্বের বিষয়, তেমনি এর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখাও অত্যন্ত জরুরি। পোশাকশিল্প নানা ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এগুলো সাফল্যের সঙ্গে উত্তরণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পোশাকশিল্পের বড় সমস্যা। গত পাঁচ বছরে পোশাকের গড় উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষভাবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বেড়েছে, যা সরাসরি উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বেড়েছে ৩৩ শতাংশ, গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ এবং ডিজেলের মূল্য বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। ফলে পরিবহন খরচসহ সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কয়েক বছর ধরে পোশাক কারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তাতে কারখানাগুলো কাজ থামিয়ে রাখতে হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কারখানাগুলোর পক্ষে উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভবপর হবে না। এতে পোশাক রপ্তানির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পগুলোয় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারে কারখানাগুলো।
পোশাক খাতে যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য উচ্চ সুদের হার একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পোশাকশিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমানে এলডিসি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশে শুল্কছাড় পেয়ে থাকে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর এসব সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। ভারত ২০ বছর আগে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হলেও তাদের টেক্সটাইল খাতে এখনও নগদ সহায়তার পরিবর্তে নানা ধরনের বিকল্প নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা পাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পোশাকশিল্পে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় থাকে।

Discussion about this post