নিজস্ব প্রতিবেদক: পোস্টাল ব্যালট ও নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় একেকটি বাসা থেকে ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার খবরও রয়েছে। এমনকি একজনের নামে অন্যজন পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটদানের এই পদ্ধতি দেশে প্রথমবার চালু হওয়ায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে বর্তমানে যে অনিয়মগুলো দেখা যাচ্ছে, তাতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও তাদের আশঙ্কা রয়েছে, যা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে—পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এসব অনিয়মের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের জানাতে হবে কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে ভোট দিতে হবে এবং অনিয়ম হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
আচরণবিধি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘ভোটার স্লিপে দলীয় নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি না রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে ভোটারদের জন্য ভোট দেওয়া সহজ হবে এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।’ নির্বাচন কমিশন চাইলে আচরণবিধি সংশোধন করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফর স্থগিত করেছেন। অথচ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখনো নিরব।’
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ড. মুহাম্মদ জকরিয়া, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
