Print Date & Time : 4 May 2026 Monday 4:11 pm

প্রধান শিক্ষক টুকুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান আমিনুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত, শিক্ষকদের হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি করতে ষড়যন্ত্র এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষকরা অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষককে জেলার বাইরে বদলি করতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও হুমকি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক থানায় জিডি করেছেন।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিগত ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইসিটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত নয় লাখ এবং ২০২৫ সালে একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিকট আদায়কৃত পাঁচ লাখ টাকাসহ মোট ১৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। এই টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা জমা রেখে বাকি টাকা বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত্ করেছেন প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু।

প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের নামে ব্যাংক পুরাতন হিসাবে থাকা ১০ লক্ষাধিক টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক।

অপরদিকে, ২০২৪ সাল ও ২০২৫ সালে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত টাকা বিদ্যালয়ের কল্যাণে খরচ না করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ রয়েছে। এখানেই শেষ নয় তার ক্ষমতার দাপট এতটা লাগামহীন ছিলো যে, তিনি ২০১৯ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক থাকাকালীন দাপট দেখিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষককে চাপে ফেলে বিদ্যালয়ের তিন লাখ টাকা নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি পাইকগাছা উপজেলায় পিতার নামে চেতনায় ’৭১ নামে অনুষ্ঠান করেন। ওই অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাইকগাছায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু দুর্নীতি ও আত্মসাতের মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের মধ্যকাটিয়া এলাকায় তিনতলা আলীশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খুলনায় দুই কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। এছাড়া, ঢাকায় তিনি একাধিক জমির প্লট ও ফ্লাটের মালিক। অপরদিকে, বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক থাকাকালীন সমেয় দুর্নীতির তিনটি মামলার তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট সৈয়দ মহল্লা খোদেজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক করা হয়।

সমপ্রতি প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে অনৈতিক যৌন সম্পর্ক করার অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমের বক্তব্য দেয়। ওই শিক্ষার্থীকে ওষুধ খাইয়ে অনৈতিক সম্পর্ক এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক মুখ খুললে তাদের মধ্য থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ হাতে পেলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি আফরোজা আক্তারের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনোভাবেই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা বিভাগীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের হাতে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত্, অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের অসত্ কয়েকজন শিক্ষক ও তার প্রতিপক্ষরা সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।