দেশের স্বপ্নচারী বেকার যুবকরা মায়ের আশা, বোনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কর্মসন্ধানে বিদেশ যাবেন হাজারো ঝুঁকি মাথায় নিয়ে, তাও আবার ব্যাংকের ঋণ নিয়ে—এই তথ্য কি আদৌ সত্য? এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
যে দেশের বেকার ছেলেরা মায়ের গহনা, বাবার ভিটে বিক্রি করে কিংবা কিস্তির ঋণে পরিবারের ওপর দায়দেনা চাপিয়ে প্রবাসে যায়, আকাঙ্ক্ষার শক্তিকে পুঁজি করে বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে তাদের কাছে সংবাদটি মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো।
দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সুদমুক্ত ঋণ পাবেন প্রবাসীরা। সত্যি সংবাদটি চমকে দেওয়ার মতোই। জমির কাগজপত্র, নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টার কিংবা যৌক্তিক বন্ধক ছাড়া কোনো ব্যাংক ঋণ দিতে চায় না সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো। তাছাড়া ঋণ প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ, পদে পদে হয়রানি তো আছেই। আর বেকার যদি হয় তাহলে আরও দূরের কথা। সেখানে কর্মমুখী বেকারদের ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, তাও আবার কোনো বেনিফিট ছাড়া সুদমুক্ত—এ কথা চলতি সময়ে সত্যি আশ্চর্য হওয়ার মতো।
বাংলাদেশ সরকার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে একটি স্বতন্ত্রধারার ব্যাংকের সূচনা করেছে; আরও অনেক সরকারি ব্যাংকের মধ্যে এর নাম প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। প্রবাসীদের যাবতীয় কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে এই ব্যাংকে জন্মযাত্রা।
প্রবাসযাত্রার আগে কোনো যুবক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কোনো প্রশিক্ষণ নিতে পারবে কি না, তা অবশ্য সংবাদে এতটা স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট—তা হচ্ছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশে প্রবাসীদের জন্য চালু হয়েছে শরিয়াহ উইং। এই শরিয়াহ উইং থেকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মতো সুদবিহীন লেনদেন বা মুনাফা আদান-প্রদানের সুবিধা থাকছে। এতে মুসলিম পরিবারের অভিভাবকদের ইসলাম ধর্ম মেনে ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
পরিবারের বয়সী অভিভাবকরা কিছুটা হলেও শান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবে সন্তানের আয়ে। এই উদ্যোগ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে—এই বিশ্বাস অনেকের।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের উদ্দেশ্যই যেখানে প্রবাসী পরিবারকে সেবা দেওয়া, সেখানে প্রবাসীদের বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স স্বাভাবিকভাবে তাদের অনুকূলেই আসার কথা। সেবার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রবাসী ব্যাংককে উল্লেখযোগ্য মাত্রার হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ থাকতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই সেবা প্রবাসীদের কাছে বিরক্তির কারণ না হয়। বরং উত্তরোত্তর সেবার মান বৃদ্ধি করে প্রবাসীদের কাছে বিশ্বাসভাজন হওয়া আবশ্যক।
প্রবাসী ব্যাংক লক্ষ্য অর্জনে সফল হোক, নিশ্চিত হোক প্রবাসীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা, সমৃদ্ধি আসুক আগামীর পথচলায়—এটাই সবার প্রত্যাশা। আমরাও মনে করি তাই।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post