
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করেই ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক খান দেড় মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন। আজ সোমবার থেকে তার ছুটি কার্যকর হবে। গতকাল রোববার বিকেলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে।
পর্ষদের এক পরিচালক জানান, এমডি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেছিলেন এবং সভায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ছুটিকালীন সময়ে তিনি বিদেশে অবস্থান করবেন। একইসঙ্গে ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডি আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে অপর এক সূত্র জানিয়েছে, এমডি মূলত ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পর্ষদ তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান মৌখিকভাবে এমডিকে দীর্ঘ ছুটি নেওয়ার পরামর্শ দেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটিতে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এমডি স্বেচ্ছায় ছুটিতে গেছেন, নাকি তাকে কৌশলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছেÑ তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী মহল তাকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি বসাতে চাচ্ছে। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই এ চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদেও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে তার জায়গায় এস এম আব্দুল হামিদকে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে এমডি পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে এমডি মো. ওমর ফারুক খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো বার্তার জবাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর মধ্যে গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। তারা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানায়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র আবারও ব্যাংকটি দখলের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ব্যাংকটির সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় তাকে অপসারণ করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে গত ৩ আগস্ট মো. ওমর ফারুক খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
মো. ওমর ফারুক খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে তিনি ব্যাংকটিতে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ৩৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়, বিভিন্ন ডিভিশন, জোন অফিস ও শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তিনি সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
