শেয়ার বিজ ডেস্ক : ফ্রান্স সরকার দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় নিরাপত্তায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রিন সোমবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য ১০ মাস মেয়াদি একটি নতুন ‘স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় সেবা’ বা ভলান্টিয়ার ন্যাশনাল সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে, যা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এই নতুন নিয়োগ কার্যক্রমটি সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৩,০০০ তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি মাস থেকেই এর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং তা চলমান ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের ফলাফল আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত নভেম্বরে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যাকে তিনি ‘সম্পূর্ণরূপে সামরিক’ বা পিওরলি মিলিটারি হিসেবে অভিহিত করেছেন। নতুন এই সেবার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের শুধুমাত্র ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ড এবং এর সাগরপারের বা ওভারসিজ অঞ্চলগুলোতে মোতায়েন করা হবে।
কোনো অবস্থাতেই তাদের দেশের বাইরে বা বিদেশি কোনো মিশনে পাঠানো হবে না। এই উদ্যোগটি পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০২৬ সালে ৩,০০০ সদস্য দিয়ে শুরু হলেও, ২০২৭ সালে তা ৪,০০০ এবং ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবছর ১০,০০০ সদস্যে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৪২,৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স হবে ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তাদের জন্য এই ১০ মাসের সময়কালটি উচ্চশিক্ষার আগে একটি ‘গ্যাপ ইয়ার’ বা বিরতি বছর হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ‘পারকোর্সআপ’ সিস্টেমে বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া ২৫ বছর পর্যন্ত বয়সের অন্য প্রার্থীদের কারিগরি, চিকিৎসা বা ভাষাগত দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকরা মাসে ন্যূনতম ৮০০ ইউরো (প্রায় ৯৩৫ ডলার) বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি তাদের আবাসন, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এক মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে ৯ মাসের জন্য সংযুক্ত করা হবে। এই নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্রান্স মূলত ২০১৯ সালে চালু করা ‘ইউনিভার্সাল ন্যাশনাল সার্ভিস’ (এসএনইউ) থেকে সরে আসছে।
১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য তৈরি ওই আগের কাঠামোটি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে ফরাসি সরকার। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এই নতুন এবং অধিকতর পেশাদার কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
