শেখ শাফায়াত হোসেন : দেশে কার্যরত মাল্টিন্যাশনাল (বহুজাতিক) কোম্পানির টপ ম্যানেজমেন্টে বা শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় একটা সময় পর্যন্ত বিদেশিদেরই নিয়োগ দেওয়া হতো। তখন মনে করা হতো, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার মতো সব ধরনের যোগ্যতা, দক্ষতা ও নেগোশিয়েবল স্কিল বা ক্যাপাসিটি বাংলাদেশিদের নেই। তবে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে ২০১০-এর দশকের পর থেকে বাংলাদেশে কার্যরত বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে দেখা যায় বাংলাদেশিদের। তখন এই সুযোগটাকেই বড় একটি সাফল্য মনে করা হতো। তবে এখন পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশি করপোরেট প্রফেশনালরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনেও বহুজাতিক কোম্পানির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে নিচ্ছেন। এমন অন্তত পাঁচ বাংলাদেশি করপোরেট প্রফেশনালকে বিশ্বের বড় পাঁচটি মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বাইরেও লিড দিতে দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের করপোরেট চাকরিজীবীদের ক্যারিয়ারে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রেরণা জাগায়।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন প্রজšে§র চাকরিপ্রার্থীদের উৎসাহ দিতে এবং তাদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেটদের পরিচয় ঘটাতে এই লেখায় সেসব প্রফেশনালকে নিয়ে আলোচনা করা হলো, যারা বাংলাদেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কাজ করে দেশের বাইরেও নেতৃীস্থানীয় আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিসার সাব্বির আহমেদ, ইউনিলিভারের জাভেদ আখতার ও ওরাকলের রুবাবা দৌলা অন্যতম।
একসময় দেশে কার্যরত মাল্টিন্যাশনাল (বহুজাতিক) কোম্পানিগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বিদেশিদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তখন প্রচলিত ধারণা ছিল, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষতা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক নেগোশিয়েশনের সক্ষমতা বাংলাদেশিদের নেই। কিন্তু ২০১০-এর দশকের পর সেই ধারণা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। দেশের বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ পদে বাংলাদেশিদের দায়িত্ব গ্রহণ ছিল সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
আজ পরিস্থিতি আরও এগিয়েছে। বাংলাদেশি করপোরেট প্রফেশনালরা শুধু দেশেই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনেও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে কাজ করার দৃষ্টান্ত এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং তা নতুন প্রজšে§র জন্য এক বাস্তব অনুপ্রেরণা।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের সামনে নতুন স্বপ্ন ও লক্ষ্য তুলে ধরতেই এই লেখায় আলোচনা করা হলো এমন পাঁচ বাংলাদেশি করপোরেট প্রফেশনালের কথা, যারা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে কাজ করে দেশের বাইরেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জাভেদ আখতার
ইউনিলিভার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফার্স্ট মুভিং কনজ্যুমার গুডস (এফএমসিজি) কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের কান্ট্রি লিডার হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর জাভেদ আখতার আন্তর্জাতিক পরিসরে ইউনিলিভারের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বহুজাতিক সংস্কৃতি, ভোক্তা মনস্তত্ত্ব ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে পৌঁছে দেয়। ইউনিলিভারে বাংলাদেশি নেতৃত্ব যে আন্তর্জাতিক মানে সক্ষম জাভেদ আখতার তার প্রমাণ।
২০২১ সালের ১ জুলাই জাভেদ আখতার ইউনিলিভারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হোন। তিনি ইউনিলিভারের দক্ষিণ এশিয়া লিডারশিপ টিমে যোগদান করেন। তাছাড়া তিনি দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হোন, যেখানে তিনি ডিজিটাল ট্রান্সফোরমেশন এবং গ্রোথের জন্য নেতৃত্ব প্রদানের গৌরব অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর মার্কেটিং প্রফেশনাল হিসেবে জাভেদ আখতার ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে তার ক্যারিয়ার জীবন শুরু করেন। এরপর ২০০০ সালে ওরাল কেয়ার ক্যাটাগরি বিজনেসে সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন।
জাভেদ আখতার তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাস্টমার সেন্ট্রিসিটি, ডিজাইন থিংকিং এবং ইনোভেশন ম্যানেজমেন্টের ওপর অভিজ্ঞতা এবং পারদর্শিকতা অর্জন করেন।
সাব্বির আহমেদ
বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট জায়ান্ট ভিসায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাব্বির আহমেদ বাংলাদেশি করপোরেটদের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বাংলাদেশে ভিসার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একাধারে ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিজিটাল ফাইন্যান্স, পেমেন্ট ইকোসিস্টেম ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তার কাজ দক্ষিণ এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভিসার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সাব্বির বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে ভিসায় যোগ দেন। এর আগে তিনি এইচএসবিসি এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতেও (বিএটি) কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট খাতে ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে সাব্বির আহমেদের। এখন তিনি ঢাকা অফিসের যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তিনটি দেশে ভিসার সামগ্রিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
রুবাবা দৌলা: ওরাকল
প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি রুবাবা দৌলা। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলে তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ক্লাউড সল্যুশন ও এন্টারপ্রাইজ টেকনোলজিতে তার অবদান প্রমাণ করেÑবাংলাদেশি পেশাজীবীরা শুধু অপারেশনাল নয়, স্ট্র্যাটেজিক লেভেলেও বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
রুবাবা দৌলা বর্তমানে ওরাকল বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওরাকল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থাকে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা করতে আধুনিক কম্পিউটিং অবকাঠামো ও সফটওয়্যার সেবা প্রদান করে।
আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতে ২৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রুবাবা দৌলা একজন প্রথিতযশা করপোরেট নেতা ও উদ্যোক্তা। তিনি টেলিনর গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনকে স্টার্টআপ পর্যায় থেকে দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি একসময় এক বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি রাজস্ব অর্জন করে।
পরে তিনি এয়ারটেল বাংলাদেশে সেবার আধুনিকায়ন ও পোর্টফোলিও রূপান্তরের
নেতৃত্ব দেন।
আবরার আনোয়ার
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং অঙ্গনে বাংলাদেশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি করেছেন আবরার আনোয়ার। বর্তমানে তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মরিশাস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে মরিশাসে যোগদানের আগে আবরার আনোয়ার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড মালয়েশিয়া (২০১৭-২০২২) এবং তার আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ-এর সিইও হিসেবে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন বাজারে তার নেতৃত্বে ব্যাংকটির করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয় এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়।
করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক খাতে ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আবরার আনোয়ার ১৯৯১ সালে এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং একজন চার্টার্ড ব্যাংকার হিসেবে স্বীকৃত।
ব্যাংক খাতে আবরার আনোয়ার বাংলাদেশের সিন্ডিকেশন ও স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স ব্যবসার অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। জটিল ও বৃহৎ করপোরেট অর্থায়ন কাঠামো গঠনে তার ভূমিকা দেশের আর্থিক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তানভীর হাসান: নেসলে
নেসলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও পুষ্টি কোম্পানিগুলোর একটি। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশে শীর্ষ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের পর তানভীর হাসান আন্তর্জাতিক বাজারে নেসলের বিভিন্ন অপারেশন ও ব্যবসায়িক ইউনিটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই ব্যবসা মডেলে তার কাজ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
ফারাহ ইসলাম: প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল
প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের (পিঅ্যান্ডজি) মতো বিশ্বখ্যাত মাল্টিন্যাশনালে ফারাহ ইসলামের নেতৃত্ব বাংলাদেশি করপোরেট নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও কনজ্যুমার স্ট্র্যাটেজির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। তার পথচলা দেখায়, লিঙ্গ বা দেশের সীমাবদ্ধতা নয়, দক্ষতাই বৈশ্বিক নেতৃত্বের মূল চাবিকাঠি।
এই করপোরেট প্রফেশনালদের সাফল্য একটাই বার্তা দেয়Ñবাংলাদেশি পেশাজীবীদের সক্ষমতা আর প্রশ্নবিদ্ধ নয়। বিশ্বমানের শিক্ষা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক বোধ ও নেতৃত্বগুণ থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বৈশ্বিক করপোরেট নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারেন।
আজকের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য লক্ষ্য তাই শুধু একটি ভালো চাকরি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক চিন্তাধারায় নিজেকে গড়ে তোলা। এই পাঁচজন বাংলাদেশি করপোরেট নেতার পথচলা প্রমাণ করে, স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে বাংলাদেশের নাম বিশ্বের করপোরেট মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তোলা সম্ভব।
শেহজাদ মুনিম
শেহজাদ মুনিম ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হোন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৯৭ সালে তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে টেরিটরি অফিসার হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর পাশাপাশি ২০০৩ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নিউজিল্যান্ড-এর গ্রুপ ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শেহজাদ মুনিম ব্রিটিশ আমেরিকা বাংলাদেশ-এর বিভিন্ন মার্কেটিং ভূমিকায় কাজ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পণ্য এবং প্যাকেজিং উদ্ভাবন ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন ২০০৬ সালে। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার হেড অব মার্কেটিং হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জনাব মুনির ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ‘বোর্ড অব ডিরেকটরস’ হিসেবে নিযুক্ত হোন।
আতা সাফদার
আতা সাফদার স্কাইলার্ক ফাইন্যান্সের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন; থাকছেন ব্যাংককে। তিনি এর আগে রেকিট বেনকিজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে মাস্টার্স করেছেন। আতা রেকিট বেনকিজার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দো-চায়নার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আতা সফদার সর্ববৃহৎ এফএমসিজি বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভারে টয়লেট সোপস নাইজেরিয়ার প্রোডাক্ট গ্রুপ ম্যানেজার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি চার বছর ধরে বাংলাদেশে গ্রাহক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ইউনিলিভারে কর্মরত ছিলেন।
নিয়া বশির কবির
সোনিয়া বশির কবির একজন বাংলাদেশি ব্যবসার নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে মাইক্রোসফ্ট বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ডি মনি বাংলাদেশ লিমিটেডের (একটি ফিন-টেক স্টার্টআপ) উপাচার্য এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা। প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের নারী-এর (বিডব্লিউটি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশে সিনটেক নামে পরিচিত আইটি ফার্ম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সোনিয়া ডেল বাংলাদেশের কান্ট্রি-ডাইরেক্টর, পরিচালক দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্যবসা উন্নয়ন, মাইক্রোসফটের নতুন ইমার্জিং মার্কেটস এবং আমরা টেকনোলজিস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন।
সোনিয়া গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে সেন্ট্রাল ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন (সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স) এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল এবং কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পাস করেন। তিনি ২০ বছর ধরে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় সিলিকন ভ্যালিতে বসবাস করেছিলেন, যেখানে তিনি তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান (বিএস) ডিগ্রি এবং সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) করেছেন।
সোনিয়া ছিলেন একজন বাংলাদেশি জাতীয় ক্রীড়াবিদ। তিনি আবাহনী মহিলা ভলিবল ও ক্রিকেট দলের জন্য খেলেছেন
এবং বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের জন্য খেলছেন।
এমবিএ সম্পন্ন করার পর সোনিয়া সিলিকন ভ্যালির ফরচুন ১০০ কোম্পানি (সান মাইক্রোসিস্টেমস ও ওরাকল ), স্টার্টআপ এবং আর্থিক জেলায়। তার দক্ষতা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও বৃদ্ধি, বিক্রয় নির্বাহ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দল গঠন এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। তিনি তরুর উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য (ইনক্লুসিভ ইনভেস্টমেন্ট ইনোভেশন); জাগো ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ যুব নেতৃত্ব কেন্দ্রের (বিওয়াইএলসি) গভর্নিং বোর্ডের সদস্য। সোনিয়া টিআইই ঢাকা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা, বাংলাদেশ কমিটিতে কাজ করেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (মহিলা উইং), আবাহনী মহিলা গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবং মহিলা উদ্যোক্তা সমিতির বোর্ডে কর্মরত আছেন।
কবির ২০১৬-২০১৮ থেকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অ্যাডভাইসরি বোর্ড অব দ্য স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড দ্য স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সে চাকরি করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ২০১৫ সালে তিন বছরের মেয়াদে স্বল্প বিকাশিত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য প্রযুক্তি ব্যাংকের গভর্নিং কাউন্সিলে সোনিয়াকে নিয়োগ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি ইউএন প্রযুক্তি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালে এসডিজি অগ্রগামী হিসেবে সোনিয়া ইউএন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট দ্বারা স্বীকৃত। তিনি তার ব্যবসায়িক অনুশীলন ও কৌশলগুলোয় সাতটি গ্লোবাল লক্ষ্য সংহত করার জন্য স্বীকৃত ছিলেন-দারিদ্র্যমুক্ত; গুণগত শিক্ষা; লিঙ্গসমতা; শালীন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো; বৈষম্য দূরীকরণ এবং লক্ষ্য পূরণের জন্য অংশীদারত্ব তৈরি।
সোনিয়া সম্প্রতি ইউনেস্কোর মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (এমজিআইইপি) গভর্নিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে চার বছর মেয়াদে নিযুক্ত হয়েছেন।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post