Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 5:16 am

বাড়তি সুদে লোকসানে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ক্রমেই ঋণনির্ভর কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। ব্যবসা পরিচালনায় ধার করা অর্থের ওপর বাড়তি নির্ভরতায় সুদ ব্যয় এখন কোম্পানির অন্যতম বড় চাপের জায়গা। উচ্চ সুদের কারণে আয় কমে গিয়ে আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে ঝুঁকি; আর কোম্পানিটির লোকসান এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে নিরীক্ষক গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির ২০২৪-২৫ আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিরীক্ষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর চলতি মূলধন স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপর নির্ভরশীল। তবে ব্যাংকের সুদহার বাড়লে কোম্পানিটির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই কোম্পানিটির ব্যয়ের বড় অংশই ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। যদিও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলোনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এখনই ব্যাংকঋণে সুদের হার কমছে না বলে জানিয়েছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে মোট ঋণের (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা কোম্পানিটির ইক্যুইটির বা নিট সম্পদের ৭৩ শতাংশ। এই ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটিকে আলোচিত অর্থবছরে সুদজনিত ব্যয় গুনতে হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা কোম্পানির মোট ব্যয়ের ৪৮ শতাংশ। এটি কোম্পানির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সচেতন থাকা দরকার বলে মনে করছে নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক আরো জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মুনাফা বিতরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো কর্তৃপক্ষ ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ওই তহবিলের অর্থ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ না করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। এই তহবিলের বিপরীতে শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এদিকে কোম্পানিটিতে ৪৭ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, ওই অর্থ তিন বছরের বেশি সময় আগের, যা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তরের বিধান থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা করেনি।

এ বিষয় জানতে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর কোম্পানি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসাইন শেয়ার বিজকে বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দর দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ।