ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও।ভারী কোন শিল্পকারখানা না থাকায় কৃষিকাজই এ জেলার মানষের একমাত্র আশা ভরসা।কিন্তু অনেক সময় কৃষক পাইনা সেই কৃষি পণ্যটির ন্যায্য দাম।এতে তাদের সংসারে অভাব লেগেই থাকে পরিবর্তন হয়না ভোগ্যের।
বিগত বছরগুলোতে বাজারে প্রচুর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরের জেলাগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টা চাষ। চলতি এই রবি মৌসুমে কৃষকরা অন্যান্য আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি ঝুকছে।বেশি উচু নিচু নয় এমন জমিতে আগে শোভা পেত ক্রাউন,তিশি,ধেমসি,কচসহু,গম ও অন্যান্য আবাদ এখন এ সব আবাদ বাদ দিয়ে কৃষক ভুট্টা চাষে উৎসাহী হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে,২০১৯-২০ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে,২০২০-২১ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২৬০হেক্টর জমিতে, ২০২১-২২ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে।২০২২-২৩ মৌসুমে এবার এখন মোট ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোট ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। সর্বশেষ চলতি মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে। এখনও ভুট্টা আবাদ চলমান রয়েছে।বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে খরচ হয়েছ ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।
প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২.০১ মেঃটন ।অল্প খরচে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনকারি ফসল হওয়ায় কৃষক গম কাটার পরে খরিপ মৌসুমি ভুট্টা লাগাতে বেশ ঝুকে পড়ে। উচ্চ ফলন শীল ভুট্টার মধ্যে রয়েছে পাইনিয়ার ৩৩৫৫ ,এন এইচ ৭৭২০,এনকে ৯৪০,সুপার সাইন ২৭৪০, সোনার বাংলা,রকেট ৫৫,ম্যাজিক -৫৫ ইত্যাদি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান নদীপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ মইনুল হক জানান, ধার দেনা করে ২ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করছি । কাটুই পোকার আক্রমন থেকে বাাঁচার জন্য স্প্রে এর পাশাপাশি বিএমডিএ’র গভীর সেচ দিচ্ছি। এতে কম খরচে সেচ সুবিধা পাওয়া যায়।বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা ভালো আছে।গতবার ভুট্টার দাম একটু কম ছিল । কিন্তুু এবার দাম ভালে পেলে কৃষকরা ভুট্টায় চাষে আশার আলো দেখতে পাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার একই গ্রামের কৃষক মোঃ আলম বলেন এবার আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় ৩ বিঘা জমিতে মৌসুমি পাইনিয়ার ৩৩৫৫ উচ্চ ফলন শীল জাতের ভুট্টা আবাদ করছি। আশাকরি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ফলন ভালো হবে। কিন্তু এবার আমরা ভুট্টার ন্যায্য দাম আশা করছি।
বিএমডিএ’র নিবার্হী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম
জানান, জেলায় বিএমডিএ’র গভীর নলকূপ সমূহ চালু রয়েছে।কৃষকরা স্বল্প খরচে গম, ভুট্টা, আলু, সবজি সহ বিভিন্ন ক্ষেতে পানি দিতে পারছে।
উপসহকারি কৃষিকর্মতা মোঃ মুজাহিদ হেসেন জানান,কাটুই পোকার আক্রমন থেকে ক্ষেত বাঁচাতে ভুট্টা গজানোর পরপরই ক্লোপাইরিস +সাইপারমেথ্রিন) এর সাথে এমাকোটিন বেনজোয়েট গ্রুপের এই দুই ধরনের কীটনাশক প্রতিলিটার ১-১.৫ মিলি হারে সপ্তাতে অন্তত একদিন গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করলে পোকার আক্রমন থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। বয়স ২০-২৫ দিন হলে হালাকাভাবে জমিতে সেচ দিলে কাটুই পোকার আক্রমন থেকে বাাঁচা যায়।
জানা যায়,এ অঞ্চলের আবহাওয়া ভুট্টা চাষের অনূকুলে থাকায় এ ফসলটির আবাদ দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। গমের তুলনায় ভুট্টা ও মরিচের দামও ফলন বেশি হওয়ায় এ ফসল দুটি চাষের দিকে ঝুকছে কৃষক।দেশে আমিষের চাহিদা বেশি থাকায় ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় সহ উত্তর অঞ্চলেন বিভিন্ন জেলাগলোতে গড়ে উঠেছে ছোট বড় হাঁস,মুরগি ও গবাদী পশুর খামার বৃহৎ কোম্পানীগুলো ছারা ,স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা এসব খামারের প্রধান খাদ্য হল ফিড।বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ফিড মিল। এসব সারা বছর প্রচু পরিমানে ভুট্টা ক্রয় করা হয়ে থাকে।গম ও ভুট্টা,থেকে আটা, ময়দা, বিস্কুট, পাউরুটি হয়।দেশিয় বাজারে ভুট্টার বেশ চাহিদা থাকে যার ফলে এ কৃষক এফসলটি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল ইসলাম এর জানান,ভুট্টার আয়ুষ্কাল ১১০-১৩০ দিন হওয়ায় এবং ফলন বেশি ও চাহিদা থাকায় এ ফসল টির আবাদ দিনদিন বাড়ছে।তিনি আরো ও বলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের গম,ভুট্টা,সরিষা,সহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রশিক্ষন ও সরকারি ভাবে প্রণোদনা দেওয়া হেেয়ছে। কৃষকরা যেন তারা অধিক ফলন ফলাতে পারে এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারে।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post