Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 8:07 am

বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়হীনতায় পিছিয়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু: সিএসই এমডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কারণে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।

আজ রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীতে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ : সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কর্মশালায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিএমজেএফ ও সিএসই যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দেড় থেকে দুই বছর আগেই চালু করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তন, বারবার নীতির পরিবর্তন এবং রেগুলেটরি বডির সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিভস বিশ্বব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। বাংলাদেশে এটি ২০২৩ সালে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।”

সিএসইর এমডি জানান, পাকিস্তানে ২০০৫-০৬ সাল থেকেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু রয়েছে এবং ভারতে আরও আগে থেকে এ কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশে এটি নতুন ধারণা হওয়ায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত প্রস্তুতিতে সময় লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় অংশ এখনো বিদেশ নির্ভর। কমোডিটি এক্সচেঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও বিদেশ থেকে আনতে হয়েছে। পাশাপাশি বিধিমালা অনুযায়ী আলাদা ব্রোকার প্রস্তুত করার প্রয়োজন হওয়ায় সময় বেড়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, কিছু কমপ্লায়েন্স ও নীতিগত জটিলতার কারণে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রস্তুতি অনেক এগিয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালুর আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ খাতে আরও কিছু ব্যয় হবে। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, “এটি কোনো পণ্য কেনাবেচার সরাসরি প্ল্যাটফর্ম হবে না। প্রথম পর্যায়ে এটি ফিউচার কন্ট্রাক্টভিত্তিক ক্যাশ সেটেলমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু হবে। পরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ফিজিক্যাল ডেলিভারি যুক্ত করা হবে।”

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।