শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং বহুল আলোচিত ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দামে গড়েছে নতুন ইতিহাস। চলতি সপ্তাহের শুরুতে অর্থাৎ গত সোমবার, ক্রিপ্টোকারেন্সিটি তার সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সহায়তার কারণে এই দাম বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিটকয়েন প্রথমবারের মতো ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে। এরপর গত সোমবার তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় ১,২৫,৮৩৫ দশমিক ৯২ ডলারে, যা ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দিন শেষে কিছুটা দরপতন হলেও এটি স্থির হয় ১,২৫,২৫৩ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য বেড়েছে ৩৩ শতাংশেরও বেশি, যা বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটে এক অভূতপূর্ব সাফল্য।
বিটকয়েনের এই উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ডলারের বর্তমান দুর্বলতা, বিশ্ববাজারে বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বিকল্প সম্পদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় বড় ফান্ড বিটকয়েনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশিষ্ট আর্থিক বিশ্লেষক অ্যান্থনি পম্পলিয়ানো এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিটকয়েন এখন এমন এক মানদণ্ডে পৌঁছেছে, যা হারানো কঠিন। আগামী ১২ সপ্তাহ বিনিয়োগকারীদের জন্য হতে যাচ্ছে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। বিটকয়েন এখন শুধুমাত্র একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী আর্থিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’
এদিকে বিটকয়েনের এই সাফল্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনার ঝড় উঠেছে। তার প্রশাসন থেকে ক্রিপ্টো সম্পদের প্রতি যে নীতিগত সহায়তা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে, তা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক সহায়তা বিটকয়েনকে আরও মূলধারার আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়ক হবে।
তবে এই দামের উল্লম্ফন যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে বলে সতর্ক করছেন কিছু বিশ্লেষক। তারা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বিটকয়েনের দামে হঠাৎ পতনের ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়। বিনিয়োগকারীদের তাই সচেতন থেকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
বিটকয়েনের এই ঐতিহাসিক মূল্যবৃদ্ধি ডিজিটাল মুদ্রার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঊর্ধ্বগতি কতদিন স্থায়ী হয় এবং আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিটকয়েন কী ভূমিকা রাখতে পারে।
