তাপস কুমার, নাটোর : ২০০৯ সালে শখের বসে দুই বিঘা জমিতে বিদেশি কুলচাষ শুরু করেন গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম। এরপর ১৬ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সাফল্য অর্জন করেন। তার দেখাদেখি এখন এলাকায় অনেক যুবক এই বিদেশি কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জানা যায়, ১৬ বছর আগে শরিফুল ইসলাম তার নিজ জমিতে পরীক্ষামূলক বিদেশি জাতের কুলচাষ শুরু করেন। গাছের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও ফলন দেখে তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন। প্রথম বছরের ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় পরবর্তীতে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কুল চাষের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে ১৬ বিঘা জমিতে বিদেশি কয়েক জাতের কুলের চাষ করছেন তিনি। তার বাগানে থাই কুল, আপেল কুল, নারকেল কুল, বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরীসহ উন্নত জাতের কুলের গাছ রয়েছে। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণে এসব বিদেশি কুল বিক্রি করছেন।
বাগান শ্রমিক নয়ন হোসেন জানায়, স্কুল বন্ধের দিনে অবসর সময়ে কুল বাগানে কাজ করি। সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনা ও নিজের খরচ মেটাই।
আরেক শ্রমিক সজীব জানায়, ৪-৫ বছর থেকে কুল ও লিচু বাগানে কাজ করি। উপার্জনের টাকা দিয়ে খরচ করি।
কুলচাষি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে শখের বসে দুই বিঘা জমিতে কয়েক প্রজাতির বিদেশি কুল চাষ শুরু করি। প্রথমে মৌসুমে গাছ থেকে প্রচুর ফল সংগ্রহ করি এবং বাজারমূল্য পেয়েছি। প্রতি মৌসুমে এই কুল বাগান থেকে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করছি। আমার এ কুল বাগানে এলাকার অনেক স্কুল-কলেজের ছেলেরা অবসর সময়ে কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ মেটায়। অনেক যুবকের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এসেছে।
একই এলাকার যুবক আমিনুর রহমান বলেন, কুলচাষি মো. শরিফুল ইসলামের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। তারা বাগানের তাজা কুল কিনেও নেন। আগামীতে আমিও শরিফুল ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে কুল চাষের পরিকল্পনা করছি।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় কুলের ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা ও বাজারমূল্য বেশ ভালো। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন। কুলচাষি মো. শরিফুল ইসলামকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post