Print Date & Time : 15 January 2026 Thursday 11:39 pm

বিদেশি বিনিয়োগে উৎপাদিত স্মার্টফোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত দেশের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী ও বিপণনকারী বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ব্যবসায়ীরা। তারা এসব সহিংস ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল ফোন শিল্পকে সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম কার্যকর করেছে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে মোবাইল ফোন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বৈধ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগের পরও কিছু অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ স্মার্টফোন বিক্রয় কেন্দ্র জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয় এবং মব সৃষ্টি করে সহিংসতা চালায়। এতে স্থানীয় স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং একাধিক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বর্তমানে ১৮টি উৎপাদনকারী কারখানার সমন্বয়ে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন শিল্প একটি শক্তিশালী খাতে পরিণত হয়েছে। এই খাতে কমপক্ষে চারটি প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক এবং ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিল্পে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

এ খাত থেকে সরকার বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি কর, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মজুরি এবং ৪০০ কোটি টাকার ইউটিলিটি বিল পেয়ে থাকে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে পরিচালিত স্মার্টফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই বিদেশি ব্র্যান্ড, যারা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এর মাধ্যমে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক অরাজক পরিস্থিতিতে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈধ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এসব সহিংস ও নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের সুষম ও নিরাপদ পরিবেশ অব্যাহত থাকে।