Print Date & Time : 1 May 2026 Friday 6:39 am

বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা, মার্চে বিক্রির দাপট পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই মাস শেয়ার কেনায় এগিয়ে থাকার পর মার্চে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত মাসে তারা শেয়ার কেনার তুলনায় বিক্রিতেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন, ফলে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ২২১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২৭২ কোটি টাকা, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি কম।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিদের মোট লেনদেন ছিল ৬৬৩ কোটি টাকা। ওই মাসে তারা ৪৬০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ২০৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। আর জানুয়ারিতে মোট লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা—যেখানে ১৯৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি হয়েছিল ১৭৯ কোটি টাকার।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময়ে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় বছরের শুরুতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে সে ধারা বদলে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য-এ উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সামরিক তৎপরতায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৫ সালে পুরো বছরে ডিএসইতে বিদেশিদের মোট লেনদেন ছিল ৩২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

ডিএসইর দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, গত নয় বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৬ সালে যেখানে বিদেশিদের লেনদেন ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, ২০২০ সালে তা বেড়ে ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত কমতে থাকে।

বিশেষ করে ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিদেশিদের অংশগ্রহণ তলানিতে নেমে আসে—যথাক্রমে ০.৮৯ ও ০.৭৭ শতাংশে। এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বিদেশিদের লেনদেন ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় উন্নীত হলেও অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের আস্থাহীনতা—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা এখনো কাটেনি।