নিজস্ব প্রতিবেদক: পতনের ধাক্কা সামলে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বেড়েছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। মূলত বেশির ভাগ বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার কারণে বাজারটিতে এই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে মূল্য সূচকও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে বিভিন্ন খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। অবশ্য এর মধ্যেও দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে বেশির ভাগ বীমা কোম্পানি।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭২টির। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমা খাতের ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৫টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০টির দাম বেড়েছে এবং সাতটির দাম কমেছে ও ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে প্রথম পৃষ্ঠার পর
প্রধান মূল্য সূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার। ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পিপলস ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑলাভেলো আইসক্রিম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইড, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতের শেয়ারগুলোয় ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে প্রধান সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিশেষ করে বিমা খাতে বেশি দেখা গেছে; যা সামগ্রিক বাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে মৌলভিত্তিসম্পন্ন অন্যান্য খাতেও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

Print Date & Time : 27 April 2026 Monday 4:16 am
বিমার উত্থানে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন
দিনের খবর,পুঁজিবাজার ♦ প্রকাশ: