Print Date & Time : 20 May 2026 Wednesday 11:16 am

বীমা-বস্ত্রের দরপতনে কমেছে সূচক ও লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার পুঁজিবাজারে বীমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে বীমা ও বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ে। এতে সার্বিক পুঁজিবাজারেও ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বীমাসহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই একের পর এক বীমা কোম্পানির শেয়ারের দর কমতে থাকে। সেইসঙ্গে বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও কমে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজারে। ফলে দর কমার তালিকা বড় হওয়ার
পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দর বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দর কমেছে ২২৮টির এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপরদিকে ১১টি বীমা কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৪২টির এবং তিনটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বস্ত্র খাতের ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৩৩টির দর কমেছে এবং ১২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৮টির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১১৬টির দর কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৪৯টির এবং তিনটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৬৩টির এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ছয়টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৪টির দর কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দর কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, টেকনো ড্রাগস, আরডি ফুড, এপেক্স স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিক্স, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড এবং মুন্নু সিরামিক।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১১১টির এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।