Print Date & Time : 15 May 2026 Friday 2:55 pm

বীমা-বস্ত্র খাতের দাপটে চাপে বড় মূলধনের কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে বীমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো। এ দুই খাতের প্রভাবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়লেও বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির দর পতনের কারণে প্রধান সূচকে বড় উত্থান দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কমেছে বাছাই করা সূচক। তবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। এতে সূচকের উত্থান হলেও কমেছে মোট লেনদেন।
দিনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পুরো লেনদেনজুড়েই বীমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো দর বৃদ্ধিতে প্রাধান্য ধরে রাখে। তবে শেষ ভাগে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন দেখা দিলে সামগ্রিক সূচকের উত্থান সীমিত হয়ে পড়ে।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৩টির দর। অন্যদিকে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র সাতটির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির এবং তিনটির দর অপরিবর্তিত ছিল।
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বীমা খাতের ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৮টির দর কমেছে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। বস্ত্র খাতে ৪০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩টির এবং পাঁচটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দর কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ
দেওয়া মাঝারি মানের ৪৩টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ২৬টির এবং ছয়টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৩৫টির দর কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ছয়টির এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর বাড়লেও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় মাত্র ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে দশমিক ৮৩ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্যেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮৫৬ কোটি ৯ লাখ টাকার তুলনায় ১৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শাহিনপুকুর সিরামিকের লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪১ লাখ টাকার।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, মুন্নু সিরামিক, আরডি ফুডস, বিবিএস কেব্লস এবং লাভেলো আইসক্রিম।
অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭২টির এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সিএসইতে লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।