Print Date & Time : 17 April 2026 Friday 8:03 pm

বৃষ্টিতে কাঁচামরিচে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির জন্য রাজধানীর কাঁচাবাজারে যেন আগুন লেগেছে, যে কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষত মসলাজাতীয় পণ্য কাঁচামরিচের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কল্যাণপুর, মুগদা, মানিকনগর, ধলপুর ও গোপীবাগ বাজার ঘুরে এই মূল্যবৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়। বিক্রেতাদের মতে, এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো চলমান বৃষ্টির আবহাওয়া। বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষিদের ফলন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভারত থেকে মরিচ আসা বন্ধ থাকার কারণে কাঁচামরিচের এই দাম বৃদ্ধি।

মানিকনগর পুকুরপাড় বাজারের সবজি বিক্রেতা রমজান জানান, পাইকারি বাজারে মরিচের চরম সংকট, যার ফলে এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ এখন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এই সংকট শুধু কাঁচামরিচেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী।

বৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৌসুমি সবজির সরবরাহ। এর ফলে অধিকাংশ সবজির দামই এখন ৮০ টাকার ওপরে। শুধু কাঁচা পেঁপে (২০-২৫ টাকা কেজি) এবং মুখিকচু (৫০ টাকা কেজি) অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া গেলেও, বাকি সবজিতেই কেজিতে ১০-২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। আজকের বাজারে বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিদরে, উস্তা ১২০ টাকা এবং পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামের এই ঊর্ধ্বমুখীতে বেগুনও পিছিয়ে নেই; লম্বা  বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া গাজর ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা এবং টমেটো ১২০-১৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। লাউপ্রতি পিস ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিয়মিত সবজির পাশাপাশি শীতকালীন আগাম সবজির দামও রেকর্ড ছুয়েছে। প্রায় এক মাস আগে বাজারে আসা শিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০-৮০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। আগাম ছোট সাইজের ফুলকপি ও পাতাকপি প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত সপ্তাহেও তা ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যেত। মুলাও প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় উঠেছে। এই আগাম সবজির উচ্চমূল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী শীত মৌসুমেও সবজির বাজার স্থিতিশীল হতে সময় নেবে।

সবজির পাশাপাশি শাকের বাজারও চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় শাকের ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুগদা বাজারের শাক ব্যবসায়ী আজাদের ভাষ্যমতে, গত সপ্তাহে যে শাক ৩ হাজার টাকায় কেনা যেত, এখন তা ৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে শাকের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। পুঁইশাকের আঁটি এখন ৪০-৫০ টাকায় এবং কুমার শাকের আঁটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য শাকের মধ্যে লালশাক ২৫-৩০ টাকা, কলমি শাক ২০ টাকা, পালংশাক ৪০ টাকা এবং পাটশাক, কচু শাক ও ডাঁটা শাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে এবং অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন শাক বা কাঁচামরিচ কেনা কমিয়ে দিতে।

এমন পরিস্থিতিতে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকি না এলে এই মূল্যবৃদ্ধি সহজে নিয়ন্ত্রণে আসবে না, যা খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এই চরম মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ একদিকে যেমন সবজির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া। ফলে বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।