Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 6:04 pm

বৈশ্বিক মানে উচ্চশিক্ষা, চাই সমন্বিত উদ্যোগ: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট’।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সূচকে দেশের অবস্থান উন্নত করতে উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কাজের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাস্বত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন।

‘ব্রেন ড্রেইন’ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে ‘রিভার্স ব্রেন’ নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

কারিকুলামের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোর্স চালু করা হচ্ছে। তিনি কারিকুলামকে ‘মার্কেট ডিপেন্ডেন্ট’ বা বাজারমুখী করার আহ্বান জানান এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে গবেষণার বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উচ্চশিক্ষায় সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। এ সময় অপচয় রোধে ইউজিসিকে একটি সমন্বিত ভর্তি ক্যালেন্ডার প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে কেবল বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না; বরং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা জানান।

প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান।

এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।