Print Date & Time : 21 April 2026 Tuesday 4:07 pm

ব্যবসাবান্ধব বাজেটের আহ্বান এমসিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ব্যবসাবান্ধব, সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই)।

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে সংগঠনটির সভাপতি কামরান টি রহমান এ আহ্বান জানান। এমসিসিআই ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

কামরান টি রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেট এমন হওয়া প্রয়োজন, যা ব্যবসাকে নিরুৎসাহিত না করে বরং বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।

সেমিনারে এমসিসিআই সভাপতি ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে করজাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, করপোরেট কর কমানো, ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল চালু, পিএসআর ও আইনি অসংগতি দূরীকরণ, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং এসএমই খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, দেশে এক কোটির বেশি টিআইএনধারী থাকলেও অর্ধেকেরও কম করদাতা রিটার্ন জমা দেন। এ অবস্থায় এনআইডি ও টিআইএন ডাটাবেজ একীভূত করা এবং নতুন করদাতাদের উৎসাহিত করতে স্বল্প পরিমাণ ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজে রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

করপোরেট কর হ্রাসের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কর ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে না। তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও কমানো হলে বিনিয়োগ বাড়বে।

ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল চালুর ওপর জোর দিয়ে কামরান টি রহমান বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য পৃথক পোর্টালের পরিবর্তে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম চালু করলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং হয়রানি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে অনলাইন শুনানি ও ডিজিটাল নোটিশ পদ্ধতি চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পিএসআর বাধ্যতামূলক করার বর্তমান ব্যবস্থা ব্যবসা সহজীকরণের অন্তরায়। আয়কর আইন ২০২৩-এর কিছু ধারা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এমসিসিআই সভাপতি বলেন, কাস্টমসে প্রকৃত লেনদেন মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন নিশ্চিত করা এবং অটোমেশন জোরদার করা জরুরি।

এসএমই খাতের উন্নয়নে পৃথক করহার ও ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁচামালের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হলে দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, নিউএইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ প্রমুখ।

দৌলত আকতার মালা বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী বাজেটে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেও ভ্যাট সংগ্রহে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।