নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংক খাতের ঋণের বড় অংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। মোট ব্যাংকঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশই এ দুই বিভাগে বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই রয়েছে অর্ধেকের বেশি ঋণ। ফলে অন্যান্য বিভাগ তুলনামূলকভাবে ঋণ ও বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দেশের সুষম উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ব্যাংক ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঢাকা বিভাগে এবং ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বিতরণ করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর শেষে যার পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। তবে গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে কমেছে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক ঋণের বড় অংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় জাল-জালিয়াতির বেশিরভাগই ঘটেছে এসব এলাকায়। আবার বেশিরভাগ ব্যাংক শাখা বা ব্যবসাকেন্দ্র সম্প্রসারণ হচ্ছে এ দুই বিভাগকে কেন্দ্র করে। অন্য বিভাগগুলোয় ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কীভাবে অন্য বিভাগে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মসূচি চলমান।
তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বর শেষে এ বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। তবে গত জুন প্রান্তিকের তুলনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খুলনা বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ডিসেম্বর শেষে রাজশাহী বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে বরিশাল বিভাগে ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
সিলেট বিভাগে ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট ঋণের মাত্র ১ দশমিক ০৭ শতাংশ। একই সময়ে রংপুর বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
ডিসেম্বর শেষে ময়মনসিংহ বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বিভাগে ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কীভাবে কম ঋণ পাওয়া অঞ্চলগুলোতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
