Print Date & Time : 30 April 2026 Thursday 5:07 am

ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের বাইরে ‘প্রাক মামলা মধ্যস্থতা’র উদ্যোগ নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের ক্ষেত্রে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজ্যুলেশন (এডিআর) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এডিআর পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংককে তাদের খেলাপি ঋণের কমপক্ষে এক শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দক্ষ ও যোগ্য মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে আরো উল্লেখ করা হয়, আদালতে মামলা হওয়ার আগে যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, তাহলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।

‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’-এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যোগ্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেগুলো হলো, মধ্যস্থতাকারীকে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় মধ্যস্থতা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেলে তালিকাভুক্ত হতে হবে, যে পক্ষগুলোর জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করা হবে, তিনি তাদের প্রতিনিধি বা পরিচালক বা কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, অর্থাৎ তিনি ওই পক্ষগুলোর সঙ্গে অতীত বা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো প্রকৃত স্বার্থ কিংবা দৃশ্যমান স্বার্থের বিষয়ে জড়িত নন, তার আইন, বাণিজ্য, ব্যাংকিং, করপোরেট ব্যবস্থাপনা অথবা সংশ্লিষ্ট পেশাগত ক্ষেত্রে কমপক্ষে সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এর মধ্যে ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক চুক্তি, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, তার ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত নীতিমালা, কার্যপ্রণালি ও প্রচলিত নিয়মাচার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার ও নির্দেশনার বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে, দেশ বা বিদেশের স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মিডিয়েশন বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে, নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অতীত সাফল্যের নজির রয়েছে তাকে এমন ব্যক্তি হতে হবে, তিনি কোনো ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত নন কিংবা কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়মাচার কিংবা আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘনজনিত কারণে কখনো দণ্ডিত হননি, তিনি অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চাকরি/পেশা হতে বরখাস্ত হননি, তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি নন এবং কোনো সময় আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হননি।

ব্যাংকারদের মতে, আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে প্রি-সুট মিডিয়েশন কার্যকর হলে ঋণ পুনরুদ্ধারের গতি বাড়তে পারে। তবে এজন্য ব্যাংকগুলোর সক্রিয় উদ্যোগ এবং ঋণগ্রহীতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে আদালতের পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিকে কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। সে কারণেই এডিআর ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।