নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংকে সাইবার হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বলে মনে করছেন ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে আয়োজিত একটি গোলটেবিল আলোচনায় গতকাল বুধবার এআইর গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
বিআইবিএম এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যেতে ব্যাংকগুলোকে সাহায্য করার জন্য বৃহত্তর বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রকমূলক নির্দেশিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বিআইবিএম পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংক তাদের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমে এআই ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে অনেক দূরে রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়ার পর এ সুপারিশ করা হয়েছে। গোলটেবিল আলোচনায় জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। বিআইবিএমের অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন খান আলোচনায় গবেষণাটি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। গবেষণাটিতে ব্যাংকগুলো কীভাবে এআই ব্যবহার করে সাইবার হুমকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও ঝুঁকি মোকাবিলা করছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে।
সমীক্ষা অনুসারে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এআই ব্যবহার করার জন্য কোনো অটোমেশন নেই (৪৬ শতাংশ) অথবা বর্তমানে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে (২৪ শতাংশ)।
এই কম হার ইঙ্গিত দেয় যে, এআইভিত্তিক সমাধান করার বাস্তবায়ন হার এখনও খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বেশিরভাগ ব্যাংক এআইচালিত সমাধান গ্রহণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে এই ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগের সীমিত পরিপক্বতা তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যাংক আংশিক অটোমেশন অর্জন করেছে, যা সাধারণত সহজ, পুনরাবৃত্তিমূলক সুরক্ষা কাজের মধ্যে এআই ব্যবহারকে সীমাবদ্ধ রাখে। বর্তমানে মাত্র ৩ শতাংশ ব্যাংকের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাংকগুলোর সার্বিক সাইবার সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
