নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে ফের সূচক কমেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক ও বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়ে পুরো বাজারে, ফলে সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
দিনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংক ও বীমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানির দর পড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই দরপতনের প্রভাব অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে দর বেড়েছে ১১৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দর কমেছে ২৫০টির এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যাংক খাতে কোনো কোম্পানির দর বাড়েনি। বরং ২৮টির দর কমেছে এবং ৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল। বীমা খাতে ৯টির দর বাড়লেও ৪৫টির দর কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ৩৭টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৫৩টির দর কমেছে এবং ১৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, ৩৪টির কমেছে এবং ছয়টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘জেড’ গ্রুপের ৩৭টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং আটটির অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৯টির দর বেড়েছে, ৯টির কমেছে এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৭২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক কমেছে ৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২১ পয়েন্ট। তবে সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড ২৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। এরপর ওরিয়ন ইনফিউশন (২৩ কোটি ৫ লাখ টাকা) এবং বিডি থাই ফুড (১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা)। এছাড়া টেকনো ড্রাগস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ফাইন ফুডস, সিটি ব্যাংক, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং শাইনপুকুর সিরামিক লেনদেনে এগিয়ে ছিল।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় সূচক নেমেছে, যদিও লেনদেন বেড়েছে।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১২ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টির দর বেড়েছে, ৯৮টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। একই সঙ্গে মৌলভিত্তি ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়লে বাজার ধীরে ধীরে ইতিবাচক ধারায় ফিরবে।
