Print Date & Time : 13 January 2026 Tuesday 9:40 pm

ভারতীয় পেঁয়াজ না আসায় সরবরাহ চাপে বাজার

শাহারুল ইসলাম, বেনাপোল (যশোর) : দেশের পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভারত থেকে আমদানি। তবে সরকারি সিদ্ধান্তে নতুন করে আমদানির অনুমতি বন্ধ থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দরভিত্তিক পেঁয়াজ ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বরের পর কোনো পেঁয়াজবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ ওইদিন ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর আগে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি চালানে ১৩টি ট্রাকে মোট ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। বর্তমানে নতুন আমদানির অনুমতি না থাকায় বন্দরের আমদানি কার্যক্রম প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দাম কমতে শুরু করে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমে আসে। তবে নতুন করে অনুমতি বন্ধ হওয়ায় আমদানি কার্যক্রম থেমে গেছে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় পৌঁছেছে।

বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, আমদানি বন্ধ থাকলে বাজার স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। ভারতীয় পেঁয়াজ মূলত পাইকারি বাজারের বড় একটি অংশ জোগান দেয়। এখন নতুন অনুমতি না পাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্দরে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে রোজার আগে বাজারে দাম কেজিতে ৮০ টাকার বেশি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, আমদানির অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত আবেদন করা হলেও এখনও কোনো অনুমোদন মেলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন না থাকলেও মৌখিকভাবে আমদানি আপাতত বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দে র উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, বর্তমানে নতুন কোনো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি ইস্যু করা হয়নি। তবে পূর্বে দেওয়া অনুমতির বিপরীতে চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজাকে সামনে রেখে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে সরবরাহ সংকট আরও বাড়তে পারে।