Print Date & Time : 13 January 2026 Tuesday 11:31 am

ভারত-চীনসহ রুশ জ্বালানির ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ৫০০% শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের সম্মতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। চীন-ভারতসহ রুশ জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর পর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন দিয়েছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেন, ট্রাম্প দ্বিদলীয় (রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় পার্টির) এ বিলের বিষয়ে ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে চীন, ভারতসহ রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে যাবে।

রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মূলত বিলটি তৈরি করেছেন। ‘স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামের বিলটি সম্পর্কে গ্রাহাম বলেন, ‘এ আইন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অর্থ জোগানো বন্ধ করতে কার্যকর চাপ তৈরি করবে। তার ভাষায়, সস্তা রুশ তেল কিনে যারা যুদ্ধে অর্থায়ন করছে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে এ বিল থামতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে।’

যদি এ ‘গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল’ বিলটি পাস হয়, তাহলে যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার জ্বালানি তেল বা ইউরেনিয়াম কিনছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে দেশগুলো থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন। এ কঠোর নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া, যাতে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হন। সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ‘আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।’ তিনি মনে করেন, ইউক্রেন যখন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এ বিল সঠিক সময়েই আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে। গতবছরের নভেম্বরে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন, আর ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ।

তবে নতুন প্রস্তাবিত বিলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা ক্যাথরিন উলফ্রাম। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নিষেধাজ্ঞা প্রণয়নে যুক্ত থাকা উলফ্রাম বলেন, ‘শুল্ককে নিষেধাজ্ঞার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এখনো অপরীক্ষিত।’ তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘বাণিজ্য আলোচনার মাঝখানে এ হুমকি বাস্তবায়নের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কম নয়। ফলে রাশিয়া ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে আমদানি চালিয়ে যেতে পারে।’

তবে গ্রাহামের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলটি সময়োপযোগী। তার মতে, ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যায় লিপ্ত রয়েছেন। এ যুক্তিতেই তিনি রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যা কার্যকর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার ভারতের শেয়ারবাজারে গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতন দেখা গেছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আরিহান্ট ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা বিভাগের প্রধান অনিতা গান্ধী বলেন, ‘শুল্ক নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে বাজার স্বস্তিতে নেই। বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে চাইছেন, যার প্রভাব পড়ছে প্রায় সব খাতে।’