ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ২টায় এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ১টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি।
মার্কিন ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। কেন্দ্রস্থল মাটি থেকে ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সংস্থা (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি) জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।
সাতক্ষীরায় ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে অসংখ্য দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, ধসে পড়েছে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি, যার উৎপত্তিস্থল জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভূমিকম্পনের মাঝারি মাত্রা থাকায় ঝাঁকুনিও ছিল বেশ। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলাবাসী।
সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ৫ দশমিক ৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়, যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার জানান, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডান দিকে একবার তারপর বাঁ দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, তিনি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশান ঘাটের পাঁচিল, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি ও অর্ধশতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোট ছোট ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার জানান, মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
চলতি মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজকের আগে বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃ®¡ ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।
১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।
