নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুরের মধুখালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এক আসামির পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের পর আসামি ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
এ ঘটনায় ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মধুখালী উপজেলার পশ্চিম গড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা হাসিনা বেগম। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মধুখালী থানার এএসআই জাহাঙ্গীর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছেলে মিন্টু মিয়াকে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক করেন। তবে আটকের সময় তার ছেলের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে হাসিনা বেগম বলেন, ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গেলে এএসআই জাহাঙ্গীর ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিকে ছাড়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। জানা গেছে আসামিকে রাতে থানার পিছনের গেট দিয়ে বের করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সকাল ১০টার মধ্যে টাকা দিতে হবে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে না পারায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাদের বাড়িতে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বড় ধরনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। একপর্যায়ে ভয়ে ধারদেনা করে ৫ হাজার টাকা এএসআই জাহাঙ্গীরকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। তবে বাকি টাকা না দিলে আরও বড় মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এএসআই জাহাঙ্গীর ও এক প্রবাসীর মধ্যকার কথোপকথনেও ঘুষের বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। শুধু তাই নয় জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলম শেয়ার বিজকে বলেন, আমার বিষয়ে যা যা অভিযোগ করছেন ওই নারী (ভুক্তভোগীর মা) এসব মিথ্যা। তার কোনো ভিত্তি নেই সবই মনগড়া।
তিনি আরও বলেন, খানায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায়কে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।
