শেয়ার বিজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ায় এর মূল্য এখন ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ইউরোর বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬০৮ ডলারে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ছিল ১ দশমিক ৩৩৯৮ ডলার, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারের মানও কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান যোগ হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। এতে আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার ইনডেক্স বুধবার ৯৯ দশমিক ৩০৬ পয়েন্টে স্থির ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের বেশি। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে বাজারে সুদহার কমানোর প্রত্যাশা ছিল।
এদিকে জাপানি ইয়েনের মানও আবার দুর্বল হয়েছে। প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৬০–এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় জাপান সরকার আবারও মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছিল, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলার ও জ্বালানির দাম একসঙ্গে বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, টাকার ওপর চাপ, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
