Print Date & Time : 4 May 2026 Monday 1:03 am

মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে স্বস্তির ধারা বজায় রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে শ্রমিক পাঠাতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও টানা পাঁচ মাস ধরে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অনেক প্রবাসী শ্রমিক সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি এবং নতুন করে যাওয়া শ্রমিকদেরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে শ্রমিক রপ্তানিতে চাপ তৈরি হলেও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থপ্রবাহে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে চলতি মাসেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার বা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর আগে মার্চে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন এবং ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, হুন্ডি ও আন্ডার-ওভার ইনভয়েসিংয়ের মতো অনিয়মে নিয়ন্ত্রণ আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এসব কারণে প্রবাসীরা এখন বেশি করে বৈধ পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষক ও অর্থনীতিবিদ হেলার আহমেদ জনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। তবে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আবার বাড়তে শুরু করেছে। একসময় কমে গেলেও বর্তমানে তা ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেল শক্তিশালী হওয়া এবং সরকারি নীতির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে এই ধারা আরও জোরদার করতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিল ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৬ ও ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। আর আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল ২ দশমিক ৪২ ও ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।