Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 6:58 pm

মসজিদ হউক সমাজ জীবনের অংশ

জামাল উদ্দিন: ১৯৯৫ সালে আমরা চার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে বাইসাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমনে বের হয়েছিলাম। প্রথমে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, ইরান হয়ে ইউরোপ যাত্রার পরিকল্পনা ঠিক করি। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ট্যুর নামে এই বিশ্ব ভ্রমনে আমাদের কাছে অনেক টাকা পয়সা ছিলোনা। তাবে আমাদের স্বপ্ন ছিলো অনেক স্পষ্ট। বিষয়টা এরকম যে গরীব বলে স্বপ্ন মারা যেতে পারে না। অনেকে প্রথম প্রথম আমাদের কথা শুনে হাসতো, টিটকারী করতো। যেখানে ইউরোপের কোন একটা দেশে যেতে লাগে ১০-১৫ লাখ টাকা সেখানে টাকা ছাড়া বিশ্ব ভ্রমন করতে চাই আমরা।

যাক ভ্রমন নিয়ে আরেকদিন লিখবো। তবে আজকে জার্মানির ভ্রমন কালে মসজিদ নিয়ে একটা ঘটনা তুলে ধরার জন্য এ লেখার অবতারণা। জার্মানিতো মুসলিম প্রধান দেশ না, তবুও সেখানকার মসজিদ নিয়ে একটা ঘটনা আমার স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি এ বিশ্ব ভ্রমনের সময়ে বিভিন্ন দেশে থাকা-খাওয়া নিয়ে আমাদের নানা রকম স্মৃতি এখনো মনে আছে। আমরা কোথাও হোটেলে থেকেছি, আবার কোথাও প্রাবাশী বাংলাদেশীরা তাদের পরম আন্তরিকতা দিয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে রেখেছে এবং খাইয়েছে। এমন ও হয়েছে আমরা হোটেলে উঠেছি কিন্তু থেকেছি কোন প্রবাসীর বাসায়। অর্থাৎ হোটেলে ভাড়া পরিশোধ করলেও থাকা হয়নি। এরকমই একটা ঘটনা জার্মানিতে। আমরা ইটালী থেকে জার্মানি যাওয়ার আগেই হোটেল ঠিক করে রেখেছিলাম। আবার সেখানে অনেক প্রাসীকে আমাদের যাওয়ার তারিখ সময় জানিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সমস্যা দেখা দেয় দেশের প্রবাসীরা আমাদের হোটেলে উঠতে দিবেন না। কারন তাদের “কথা এতোদূরে এসে একা থাকবো কেনো – তাদের কাসার থাকতে হবে। সেখানে আরেক সমস্যা কার বা কাদের বাসায় উঠবো-সেটা নিয়েও মতোবিরোধ। একদল একেক এলাকায় থাকেন- আমরা কার অতিথি

হবো। এরমধ্যে নামাজের সময় কাছের একটা মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আমার চিন্তার মোড় ঘুরে যায়। এতো সুন্দর মসজিদ সেখানে থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

আমার প্রস্তাব কারো বাসায় উঠবো না-থাকবো এই মসজিদে। যে কয়দিন এখানে থাকাবো ঘুরে ঘুরে সবার বাসায় যাবো দেখবো- প্রয়োজনে খাবো। আমার কথা সবার পছন্দ হয়ে যায়। এবং সেইমতো জার্মানিতে থাকার জন্য আমাদের বাসস্থান হয় মসজিদ। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময়ের পর আজ যেনো সে মসজিদে থাকা নিয়ে লেখা সে প্রশ্নের জবাব দিয়ে নিই আগে।

আমাদের শেয়ার বিজ পত্রিকার গত ঈদুল ফিতর সংখ্যায় ‘কেমন হতে পারে আগামীর মসজিদ’ শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয়েছে। শিক্ষাবীদ, গবেষক হাসান সিরাজী এটা লিখেছেন। তিনি খুব সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষার মালেয়শিয়ার মসজিদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে লিখেছেন। সেখানে মসজিদে লাইব্রেরী, মানুষের অবসর নেয়ার স্থান এমনকি বিয়ের জন্য ম্যারেজ কর্নার ও রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের মসজিদে এরকম কোন কিছুর ব্যবস্থা এখনো হয়ে উঠেনি। অর্থনৈতিক, সামাজিক বাস্তবতায় আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও অনেকক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। আমার মনের প্রশ্ন আজ জনসম্মুখে নিয়ে আসার কারণ নব্বই শতাংশ মুসলমান অধ্যুসিত দেশে কোরআন, ধর্ম, মসজিদ-এ পিছিয়ে থাকবো কেনো? আমার জানামতে বাংলাদেশে প্রায় ৫-৬ লাখ ম্যাজিদ আছে। এসব মসজিদ আধুনিক সাজে সজ্জিত, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। কিন মানুষের ব্যবহারের জন্য, পড়া লেখা জ্ঞানচর্চার জন্য মসজিদ যদি উন্মুক্ত থাকে মানুষের উপকার হয় বেশি।

কেমন হতে পারে আগামীর মসজিদ? [1]