Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 5:28 am

মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের জন্য ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের ‘বিলম্ব না করে ইরান ছাড়তে’ নির্দেশ দিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানায়, এখনই ইরান ছাড়ুন। একইসঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই দেশত্যাগের পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

যারা কোনো কারণে ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় বলা হয়, যদি আপনি দেশ ছাড়তে না পারেন, তাহলে নিজের বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে অবস্থান করুন।

এছাড়া সতর্কবার্তায় ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করতে হলে অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না ও দ্বৈত নাগরিকদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে।

ভার্চুয়াল দূতাবাস সতর্ক করে জানায়, মার্কিন পাসপোর্ট দেখানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ দেখানোই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে।’

এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে- এমন ‘যে কোনো ও সব দেশের’ ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণা আসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ যদি প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করে, সে ক্ষেত্রে হামলার হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে একইসঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্ভাবনা অনুসন্ধানে আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সোমবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত সামরিক বিমান হামলার বাইরে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প বিষয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ জানায়, সামরিক ও গোপন এসব বিকল্পের মধ্যে সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ইরানের কমান্ড কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হতে পারে।

পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ আরও জানায়, সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান আলাদাভাবে কিংবা একইসঙ্গে চালানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ বিকল্পগুলো নিয়ে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আলোচনা করতে পারে।

এর আগে রোববার ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ‘খুব শক্ত বিকল্প’ বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে যুক্তরাষ্ট্র কখন, কোথায় বা কীভাবে পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ট্রাম্প।