Print Date & Time : 15 May 2026 Friday 4:13 am

মুন্সীগঞ্জে হঠাৎ বন্ধ প্রাথমিকের ৬৩ শিক্ষকের বেতন

প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ : হঠাৎ করেই মুন্সীগঞ্জ সদরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সদর উপজেলার ৪৩ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকরা অক্টোবর মাসের বেতন উত্তোলন করতে পারেননি। বেতন না পাওয়ায় ওই শিক্ষকদের পরিবারে নেমেছে অনামিশার অন্ধকার। পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন ভোগান্তিতে।

জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে এসব শিক্ষক সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। ১০ বছর পূর্তিতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তারা উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হন। সেই মোতাবেক তাদের বেতনও হচ্ছিল। তবে পূর্ব ঘোষণা বা লিখিত কোনো নির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎই তাদের অক্টোবর মাসের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষকদের বেতন বন্ধের কারণ হিসেবে জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। তাছাড়া গত বুধবার বেতন বন্ধের কারণ জানতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাতের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সদর উপজেলার নৈরপুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, চলতি বছরের গত ২০ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের আলোকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মেহেদী হাসান শরীফ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এসব শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেড বাতিল হতে পারে বলে জানান। এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এরপর চলতি মাসে আমরা গত অক্টোবর মাসের বেতন উত্তোলন করতে গিয়ে দেখি, আমাদের বেতন হয়নি। এ বিষয়ে জানতে আমরা শিক্ষা অফিসে গেলে বলা হয়, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশ এসেছে; কিন্তু সেই চিঠি কেউ আমাদের দেখাতে পারেনি।

মুন্সীগঞ্জ সদরের ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, চাকরিতে যোগদানের ১০ বছর পর আমরা উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হই। সেই মোতাবেক আমাদের বেতন হয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎই চলতি মাসে বেতন উত্তোলন গেলে বাধে বিপত্তি। অক্টোবর মাসের বেতন হয়নি আমাদের। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকের পরিবারে অন্ধকার নেমেছে।

এ শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, বেতন বন্ধের বিষয়ে জানতে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলে সেখানে দায়িত্বে থাকা অডিটর অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই কর্মকর্তা তাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ পর্যন্ত করেছেন। এমনকি হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

গতকাল শুক্রবার বিকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ বলেন, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগালি করার দাবি মিথ্যা। তারা উল্টো ২০-২৫ জন নিয়ে এসে আমাকে হুমকি দিয়েছে। আর তাদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের চিঠির কারণে।

পক্ষান্তরে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোমিন মিঞা বলেন, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের লিখিত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওইসব শিক্ষকের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেড উন্নীতকরণ সমস্যায় বেতন আটকে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওই শিক্ষকরা আগের গ্রেডে নিয়মিত বেতন পাবেন। এতে ১৫-১৬ দিন সময় লাগতে পারে।