শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা এক সপ্তাহ পেরোতেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সামরিক ময়দানে পাওয়া সাফল্যকে তিনি শেষ পর্যন্ত একটি স্পষ্ট ভূ-রাজনৈতিক বিজয়ে রূপ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা এবং আকাশ, স্থল ও নৌপথে ইরানি বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলার পরও সংকট থামেনি; বরং এটি দ্রুত একটি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দীর্ঘ মেয়াদে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে, যার সার্বিক পরিণতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষমতায় আসার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘নির্বোধ’ (স্টুপিড) সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখবেন। কিন্তু এখন তিনি এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছেন, যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ইচ্ছাকৃত ও অন্তহীন যুদ্ধ’ বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, ট্রাম্প প্রশাসন তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে তারা বারবার তাদের যুক্তি বদলাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন আসলে তেহরানে ‘শাসনক্ষমতার পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ) চাইছে কি না, সে বিষয়ে মিশ্র বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প এই প্রাণহানির শঙ্কাকে খুব একটা পাত্তা না দিলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লে তা তার জন্য রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেখানে তেলের ট্যাংকার চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের এই বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা ট্রাম্পের দলকে অনেকটাই অপ্রস্তুত করে ফেলেছে। কারণ ইরানে হামলার আগে তেলের বাজারের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তেমন কোনো পরামর্শ করা হয়নি। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধের ব্যয় প্রতিদিন বাড়ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন চলতে পারে। তবে যুদ্ধ শেষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেননি। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস রয়টার্সকে দেওয়া এক সাকাৎকার বলেন, সামরিক দিক থেকে মার্কিন কৌশল প্রশংসনীয় হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে হয়তো পুরোপুরি ভাবা হয়নি।
সব মিলিয়ে সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে সফল মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post