Print Date & Time : 29 April 2026 Wednesday 2:16 pm

রমজানে সাদা চিনি বর্জন করুন

ডা. মনিরুজ্জামান : 

চিনি থেকে ১৪৬ ধরনের রোগ বা রোগ জাতীয় অসুস্থতা হয় রমজানে শরবত। বিভিন্ন কোম্পানি আবার বিভিন্ন নামে সিরাপ বিক্রি করে। এগুলো সব হচ্ছে চিনি। সেটি আয়ুর্বেদিক হোক আর অ্যালোপেথিক হোক সব হচ্ছে চিনি। শরবতে অমুক শরবতে তমুক। এই শরবতের মূল উপাদান হচ্ছে সাদা চিনি। তো রমজানে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই এই চিনি খেয়ে। সারাদিন যা রোজা রেখে উপকার করলেন সন্ধ্যার সময় শরবত এবং সাদা চিনিজাত মিষ্টি খেয়ে এবং রমজান মাসে এই খাবারটা মানে এটিকে রমজানের অঙ্গ করে ফেলা হয়েছে। রোজা মানে হচ্ছে যে শরবত চাই। তো আসলে এই চিনি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর সাদা বিষ। হোয়াইট সুগার যেটি হোয়াইট পয়জন। একজন গবেষক তিনি চিনির ১৪৬টি ক্ষতিকারক দিক তালিকাভুক্ত করেছেন। যে চিনি থেকে এই ১৪৬টি রোগ বা রোগ জাতীয় অসুস্থতা এটি হয়।

প্রতি এক মিলি বেশি চিনি থাকা মানে পাঁচ মাস বেশি বুড়ো হয়ে যাওয়া।

চিনি যদি আপনি বেশি খান তো আপনার ত্বকে ভাঁজ পড়বে। চেহারা বুড়িয়ে যাবে এবং গবেষকরা বলেন যে প্রতি এক মিলি বেশি চিনি থাকা মানে আপনার বয়সের চেয়ে পাঁচ মাস বেশি বুড়ো হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আপনার ত্বকে ভাঁজ পড়বে সেরকম।

অতএব যারা তরুণ থাকতে চান সাদা চিনি এটাকে বিষ হিসেবে বর্জন করবেন। হোয়াইট সুগার মানে হচ্ছে হোয়াইট পয়জন। এই যে এত সিস্ট টিউমার ক্যানসার, প্রধান কারণ হচ্ছে চিনি

চিনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ব্রেস্ট ও কোলন ক্যানসার। চিনি শরীরের ইনস্যুলিনের উৎপাদন বাড়ায় কোষ বিভাজনের যে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হচ্ছে ইনস্যুলিন। এবং কোষ বিভাজনের এক অস্বাভাবিক সহজাত হলো ক্যানসার। এই যে এখন অল্প অল্প বয়সের বাচ্চাদের সিস্ট হচ্ছে ক্যানসার হচ্ছে।

আজকে আমার খুব খারাপ লাগল। আমি এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় একটা ছোট্ট মেয়ে একটা কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তো আমি হাত বাড়িয়ে নিলাম। ছোট্ট মেয়ে এই বয়সেই টিউমার। এবং এই যে এত সিস্ট টিউমার ক্যানসার প্রধান কারণ হচ্ছে চিনি। ফ্যাটি লিভারেরও প্রধান কারণ হচ্ছে চিনি। কারণ লিভারের একটি কাজ হলো চিনিকে ফ্যাটে পরিণত করে জমিয়ে রাখা। চিনি বেশি খাওয়া মানে হচ্ছে লিভারে বেশি চর্বি জমা। লিভারের কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অবস্বাদ বিষণ্নতা ও কর্মদ্যোমহীনতার কারণ হচ্ছে চিনিজাত খাবার।

চকলেট দিয়ে আসলে বাচ্চাদের আমরা সাদা বিষ খাওয়াই

এবং আমরা বাচ্চাদের আদর করে যে চকলেট দেই। এই চকলেট দিয়ে আসলে বাচ্চাদের এই সাদা বিষই আমরা খাওয়াই। চকলেটের মূল উপাদান হচ্ছে চিনি কোকো এবং দুধ। চিনি এবং দুধ এটি কিন্তু ঘন হয়ে আঠার মতো হয়ে যায়। এবং যখনই বাচ্চা চকলেট খায় এই আঠাটা তার মাড়িতে লেগে থাকে এবং মাড়িতে লেগে থাকা আঠা দুধ এবং চিনির মিশ্রণ এটা হচ্ছে মুখের যে ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার আদর্শ খাবার। দাঁত এবং মাড়ি নষ্ট করার পেছনে চকলেট হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ। এবং আজকাল তো চকলেট ফ্যাশন হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে যারা আসেন চকলেট নিয়ে আসেন।

এখন থেকে কী করবেন? চকলেট যদি কেউ এনে দেয় চিনিজাত দ্রব্য যদি কেউ এনে দেয় তাকে বলবেন যে, ভাই এটিতো আমি খাই না। তার চেয়ে বরং এর পরে যখন আসবেন ফলটল নিয়ে এসেন না বললেও তো আনবেন। অ্যা বলবেন যে, আমি এই এই ফল পছন্দ করি বলে দিলেন যখন আনে আনবে (হাসি) অন্তত সেতো এই চকলেট তো আনবে না।

এবারের রমজানে চিনির শরবত এবং চিনি জাতীয় যত মিষ্টি সব আমরা বর্জন করব।

অতএব আপনার বাচ্চাকে চকলেট খাওয়াবেন না নিজে চকলেট খাবেন না। এবং চকলেট মানেই হচ্ছে বাচ্চার ওজন বাড়বে হƒদরোগ হবে ক্যানসার হবে ডায়াবেটিসসহ সব সমস্যা সৃষ্টি হবে। অতএব, চকলেটের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবেন। অর্থাৎ চিনি জাতীয় মিষ্টি সাদা চিনি এটিকে টোটালি বর্জন করবেন এবং এবারের রমজানে আমাদের এটা হওয়া উচিত যে চিনির শরবত এবং চিনি জাতীয় যত মিষ্টি সব আমরা বর্জন করব। রমজানের বরকত পাওয়ার জন্যে রোজার বরকত পাওয়ার জন্যে।

তো বলবেন যে তাহলে খাবটা কী? খেজুর খাবেন এবং আমরা এখন দেখি যে খেজুরের আলাদা দোকান এত পদের খেজুর পাওয়া যায়। ঝোলাগুড় খেতে পারেন আখের গুড় খেতে পারেন খেজুরের গুড় খেতে পারেন।

মাদক যেভাবে অ্যাডিক্টিভ সাদা চিনি হচ্ছে একইভাবে আডিক্টিভ সব সময় মনে রাখবেন যে, খাবারে এডেড সুগার সাদা চিনি রাখবেন না। যে রকম অনেক সময় মিষ্টি কুমড়া রান্না হচ্ছে এটি মিষ্টিটা বাড়ানোর জন্যে চিনি দিয়ে দেয়া হয়। আরে গজব করলেন আপনি। কখনো খাবারে রান্নাতে কোনো কী করবেন না? আলাদা সাদা চিনি এটা ব্যবহার করবেন না। কোনো রান্নাতে না। আরে রান্না স্বাদ হবে তো আপনার প্রপোরশনেতে। মসলার যে প্রপোরশন সেটাতে স্বাদ হবে। স্বাদ চিনিতে হয় না। চিনি হচ্ছে অ্যাডিক্টিভ। যেভাবে কোল্ড ড্রিংকস অ্যাডিক্টিভ যেভাবে সিগারেট অ্যাডিক্টিভ মাদক যেভাবে অ্যাডিক্টিভ সাদা চিনি হচ্ছে একইভাবে অ্যাডিক্টিভ। এটা নেশাকারক।

যে মিষ্টি খায় আপনি দেখেন ডায়াবেটিসের রোগীকে অ্যা ফ্রিজ তালা দিয়েও রাখা যায় না। এডিকশনটি কী পরিমাণে মিষ্টির আসক্তিটা। এটা যে শুধু ডায়াবেটিস রোগী তাদের না যারা মিষ্টি খায় তারা মিষ্টি না খাওয়া পর্যন্ত তাদের খাবারে তৃপ্তি হয় না। আমি এমন মানুষ দেখেছিÑযেকোনো মিষ্টি নাই বলে যে ঠিক আছে দুই চামচ চিনি নিয়ে আস। চিনি চিবিয়ে খাচ্ছেন। অর্থাৎ এডিকশন নেশা আসক্তি।

যেরকম এনার্জি ড্রিংকস আসক্তিকর। কোল্ড ড্রিংকস আসক্তিকর। কোল্ড ড্রিংকসের মধ্যেও কিন্তু প্রচুর চিনি থাকে। যে কারণে এটা যত ঠান্ডা হয় এটার স্বাদ তত বেশি হয়। ঠান্ডা না হলে এটির স্বাদ হয় না। যেরকম মিষ্টি দেখবেন যে ঠান্ডা হলে স্বাদ হচ্ছে অন্যরকম। চিনি দিয়ে যে জিনিসগুলো তৈরি করা হয় সেই মিষ্টি। ঠান্ডা হলে স্বাদ আলাদা। ফিরনি ঠান্ডা হলে স্বাদ আলাদা। ঠান্ডা হলে মজা আলাদা।

ঘরে আলগা কোনো সাদা চিনি আমরা রাখব না তো অতএব এবারের রমজানে যেরকম ধূমপান কোল্ড ড্রিংকস সফট ড্রিংকস এনার্জি ড্রিংকস এবং মাদক যেভাবে আমরা বর্জন করি। চিনিটিও আমরা সেভাবে সাদা চিনি বর্জন করব, যে ঘরে আলগা কোনো সাদা চিনি আমরা রাখব না। রান্নায় কোনো চিনি ব্যবহার করব না এবং কী করব না? চায়ে কোনো চিনি দেব না। নিজেরও না মেহমানদেরও না। মেহমান এলে একান্ত যদি সেরকম হয় তো কী করবেন? খেজুরের গুড় যে আপনাকে একটু ঝোলাগুড় দিয়ে চা বানিয়ে দিতে পারি। যদি মিষ্টি চানই। কারণ যেহেতু সাদা চিনি এটা বিষ এই বিষ আমি নিজে খাই না কাউকে পরিবেশন করি না।

আমাদের এখানে তো চিনি আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে। আমাদের দেশে কিন্তু চিনিকলগুলো সব কী হয়েছে? সব বন্ধ। সব বিদেশি চিনি। আরে বিদেশ থেকে ডলারে চিনি এনে খেতে হবে বিষ, অন্যা কোনো বুদ্ধিমান জাতি এটা করবে? তো আসলে আমরা যেহেতু জানতাম না সেজন্যে আমরা করেছি এখন যেহেতু জানছি ইনশাআল্লাহ চিনি আমরা বর্জন করতে পারব।

 

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব