Print Date & Time : 13 January 2026 Tuesday 12:36 pm

রাজনীতিতে দুর্নীতি, দিশেহারা জনগণ

মাহমুুদুল হক আনসারী : দুর্নীতি একটি ব্যাপকভাবে অর্থবোধক শব্দ। দুর্নীতি ছাড়া কম ব্যক্তি গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠান পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে বেশিরভাগ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জাতীয়ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দেশ। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক সবগুলো সেক্টর দুর্নীতিতে আক্রান্ত। সরকারের এমন কোনো শাখা প্রশাখা পাওয়া যাবে না। যেখানে দুর্নীতি বাসা বাধেনি। এটি একদিনের কোনো বিচ্ছিন্ন গঠনা নয়। বাংলাদেশের শাসন প্রশাসনের শুরু থেকে দুর্নীতির বীজ বপন করা হয়েছে।

এই দেশে রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসনিক সেক্টরে দুর্নীতি অঘোষিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। রাজনীতির দুর্নীতি এখন সূর্যের মতো দিবালোকে দেখতে পাওয়া যায়। দল থেকে নেতাকর্মী পর্যন্ত দুর্নীতিতে আসক্ত রাজনৈতিক দল। পদ পদবি, এমপি, মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য লভিং করা, কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করা। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া। গুম, খুন, হত্যা, অপহরণসহ জঘন্য অপরাধের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং থাকা। দলীয় কর্মীদের মধ্যে কালো টাকা ছিটানো। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। সবকিছু জঘন্যতম রাজনৈতিক দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনীতি চর্চা হচ্ছে। প্রায় বিশকোটি মানুষের এই দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিতভাবে দুুই শতাধিক রাজনৈতিক দলের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। একটি রাজনৈতিক দলের নামে কয়েকটি গ্রুপের বিভক্তি, দল তৈরি হয়। এক একটি গ্রুপের এক একজন চেয়ারম্যান, সভাপতি, মহাসচিব দেখা যায়। পুরাতন ও নতুন দলের মধ্যে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এক একটি দল চার পাঁচটি ভাগে বিভক্ত হয়। কারও গ্রুপে চারজন, কোনো গ্রুপে পাঁচজন কারও অফিস পাওয়া যায় আবার কারও অফিস পাওয়া যায় না।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী অনেক রাজনৈতিক দলের তাদের দেওয়া ঠিকানা খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাতেগোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ  রাজনৈতিক দলের পত্রিকায় বিবৃতি ছাড়া অফিস বা কার্যালয়ের হদিস পাওয়া যায় না। রাজনীতিতে দুর্নীতি এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মসূচি চর্চা, অনুশীলন হচ্ছে বলে ধারণা রাজনীতি বিশ্লেষকদের। ফলে প্রচলিত দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অনুশীলনের মাধ্যমে দুর্নীতি মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে উঠেছে। সামাজিক শৃঙ্খলা, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা বারবার আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে। রাজনীতি থেকে দুর্নীতি পরিষ্কারভাবে মুছে ফেলতে হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে নমিনেশন পাওয়া বন্ধ করতে হবে। অর্থের বিনিময়ে আসন বণ্টন বেচা বিক্রি বন্ধ করতে হবে। আদর্শবান, যোগ্য, মেধাবী, শিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ যোগ্যসম্পন্ন নেতাদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেকশন করতে হবে। দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, অর্থপাচারকারী দাগী, ফোজদারি আসামিদের কোনোভাবেই প্রার্থী করা যাবে না।

৫ই আগস্ট, ৩৬ জুলাই যেই জন্য সংগঠিত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক দল থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। মেধা সম্পন্ন যোগ্য আদর্শিক দেশপ্রেম সম্পন্ন নেতৃত্বকে নমিনেশন দিতে হবে। বিগত সরকারের শাসক ও নেতাকর্মীদের দুর্নীতির ইতিহাস দেশ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। সেই একই চিত্র আর চরিত্র জনগণ দেখতে চায় না। রাজনীতি ও নির্বাচনকে দুর্নীতি মুক্ত দেখতে চায় জনগণ। দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিক, লুটপাটকারী পাচারকারীদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। জনগণ বারবার নির্বাচনের নামে রাজনীতির নামে ধোঁকা খাচ্ছে। আদর্শিক পরিবর্তন, আদর্শিক রাজনীতি অর্থবহ নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা। রাজনীতির গ্যারাকলে জনগণ আর জীবন বিসর্জন দিতে চায় না। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি  ধোঁকার আওয়াজ ধ্বনিতে জনগণ এই পর্যন্ত তাদের জীবনকে প্রতারণায় পড়েছে আর ধোকা খেয়েছে। ছাত্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে জাতির যে আশা দেখেছে তা যেন আগামীদিনে নাগরিক জীবনে বাস্তবায়িত হয়। বাংলাদেশের আগামীর নির্বাচন, সরকার গঠন সবকিছুতেই যেন দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়, প্রত্যাশা জনগণের।

সংগঠক, গবেষক, কলামিস্ট