নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। গতকাল রোববার দিনশেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
আরিফ হোসেন খান জানান, ‘মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কমেছে। তবে প্রবাসী আয়ের ভালো প্রবাহ থাকায় রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। অন্যথায় রিজার্ভ আরও কমে যেত। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রিজার্ভ এখনো সন্তোষজনক।’
সূত্র জানিয়েছে, নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ ধরে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা উচিত। সেই দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তখনকার গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। এর ফলে চাপে থাকা রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। যদিও আগের দায় পরিশোধের চাপ থাকায় বর্তমানে রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post