শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও পাঁচজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গত শনিবার এক সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে ভিয়েতনামের বেশ কয়েকটি উপকূলীয় প্রদেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দেশটির হুয়ে, দা নাং, লাম ডং এবং কোয়াং ত্রি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কিছু অঞ্চলে এক দিনে রেকর্ড ১ দশমিক ৭ মিটার (প্রায় পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে, যা গত কয়েক দশকে নজিরবিহীন।
ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শহর হোই আন, যা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত, তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠে যাওয়ায় পুরো এলাকায় চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন কাঠের নৌকায় যাতায়াত করছেন।
হোই আনের বাসিন্দা চুয়াং নুয়েন বলেন, ‘সবাই কিছুটা প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কেউ ভাবেনি পানি এত দ্রুত বাড়বে। অনেকের ঘরবাড়ি রক্ষা করা যায়নি, ফলে বিপুল ক্ষতি হয়েছে।’
ভিয়েতনাম দুর্যোগ ও জলাশয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যায় মারা গেছে বা ভেসে গেছে প্রায় ৪০ হাজার পোলট্রি ও গবাদি পশু এবং প্লাবিত হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি। এছাড়া সপ্তাহের শুরুতে হওয়া প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক লাখ বাড়িঘর এবং ১৫০টিরও বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ দেশটির অবকাঠামো ও কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম নয় মাসে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট ১৮৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে, আর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১০ মিলিয়ন ডলার।
ভিয়েতনাম পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১০টি ঝড় আঘাত হানে। কিন্তু চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২টি ঘূর্ণিঝড় ভিয়েতনামের উপকূলীয় এলাকায় প্রভাব ফেলেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতারই ইঙ্গিত দেয়।
সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। সেনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় চলছে ত্রাণ বিতরণ ও নিখোঁজদের সন্ধান অভিযান। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
