Print Date & Time : 23 April 2026 Thursday 11:18 pm

শিক্ষক থেকে ডিজি ড. সোহেলের মূলশক্তি প্রশাসনিক দক্ষতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন।
গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড. সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।
মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি-৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।
বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।
বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।
২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারি কলেজ ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি। তিনি ২০১৩ সালে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে মহাসচিব পদে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন করেন।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, বিগত হাসিনা সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।
মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।
মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অব কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষা খাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি তিনি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।